ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যর্থ হওয়ায় এখন মানব গোয়েন্দা তথ্য বা হিউম্যান ইন্টেলিজেন্সের (HUMINT) ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবার মৃত্যুর পর থেকে এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনি। তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়েও নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।
১৫০ দিনের বেশি সময় ডিজিটাল যোগাযোগের বাইরে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনি গত ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিজিটাল যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেননি। ফলে স্যাটেলাইট ও ইলেকট্রনিক নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ইরানের কোনো নিরাপদ ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় অবস্থান করছেন। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানও একাধিক কৌশল নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা
মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা আভনার আব্রাহাম দাবি করেছেন, মোজতবার অবস্থান গোপন রাখতে ইরান সরকার কঠোর নিরাপত্তার পাশাপাশি তার মতো দেখতে একাধিক ব্যক্তিকেও ব্যবহার করছে।
তার মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা শারীরিক অবস্থার কারণে মোজতবা খামেনি তার বাবার জানাজা ও দাফনেও অংশ নেননি।
গোয়েন্দাদের ভরসা এখন মানব তথ্য
দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নজরদারিতে যে ধরনের সাইবার কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, মোজতবার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না। ফলে এখন গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে মানব সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা।
মোসাদের সাবেক কর্মকর্তা রামি ইগ্রা বলেন, ফোন ব্যবহার না করলেও মোজতবা অন্য কোনো মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারেন। লিখিত বার্তা বা বিশ্বস্ত দূতের মাধ্যমে যোগাযোগের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে মানব গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, যেমনটি হয়েছিল আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে।
কোম শহরসহ সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্রে নজরদারি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ইরানে সীমিত হলেও ইসরায়েলের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই তেহরানের পাশাপাশি ধর্মীয় নগরী কোমের আশপাশের সম্ভাব্য নিরাপদ স্থাপনাগুলোতেও নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম আল-মাশহারি জানিয়েছে, মোজতবা খামেনির কোনো অডিও বার্তাও প্রকাশ করা হচ্ছে না। কারণ বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কণ্ঠ বিশ্লেষণের মাধ্যমেও তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মোজতবা খামেনির অবস্থান ও ভূমিকা এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অন্যতম আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















