রংপুরে আলোচিত চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে দুই দিনে মোট ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তদন্ত সংস্থা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একইভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি জিন্নাত আলীসহ দুজন ডিবি সদস্য কারাগারের হাজতি-কয়েদি শাখার ইনচার্জ ডেপুটি জেলার একরামুল হকের উপস্থিতিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ।
তিনি বলেন, আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের যে অনুমতি পাওয়া গিয়েছিল, বুধবার ছিল তার শেষ দিন। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তদন্তের প্রয়োজনে যতটুকু গভীরে যাওয়া লাগে, আমরা ততটুকু গভীরেই যাব। মামলা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে যা যা করা প্রয়োজন, সবই করা হবে।’
যেভাবে ঘটে চার হত্যাকাণ্ড
গত ২১ আগস্ট ভোররাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।
পরদিন ২২ আগস্ট রাত ১১টা থেকে ২৩ আগস্ট ভোর ৫টা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই দিনই আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরে ২৫ আগস্ট সীমান্ত ও বিদ্যুৎ নামে আরও দুই ব্যক্তি আদালতে সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থা।
প্রতিবেদকের নাম 



















