রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার মাইনিমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ফার্নিচার কারখানা, দুটি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর মাইনিমুখ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাঁথাছড়া এলাকায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী আলালের কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জড়ো করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের তরিকুল বাদশা ও রাসেলের ফার্নিচার কারখানা এবং দুটি বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তিনটি কারখানা, দুটি বসতঘর, মূল্যবান কাঠ, আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রস্তুত ও অর্ধসমাপ্ত আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী তরিকুল বাদশা জানান, এশিয়া ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার আগুনে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “আমরা তিনজনই সর্বস্ব হারিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্রিস হোসাইন বলেন, একসঙ্গে তিনটি পরিবার তাদের জীবিকার সবকিছু হারিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। দ্রুত সরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা কঠিন হবে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কারখানাগুলোতে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান কাঠ, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রস্তুত আসবাবপত্র ছিল। ব্যবসায়ীরা তাদের প্রায় সব পুঁজি এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের জমি ছাড়া আর উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ অবশিষ্ট নেই।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
লংগদু ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।
প্রতিবেদকের নাম 




















