ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রোহিঙ্গারা দেশে ফিরুক, তা কোনোভাবেই চায় না মিয়ানমার: সামি হামদি

বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে রাখাইনে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান


নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরতে চাইলেও প্রত্যাবাসনের বাস্তব সম্ভাবনা এখনো তৈরি হয়নি।

শরণার্থী ও উদ্বাস্তুদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক সামি হামদির মতে, রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানামুখী চক্রান্ত করছে মিয়ানমার। তার দাবি, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক—এটা কোনোভাবেই চায় না মিয়ানমার। বরং প্রত্যাবাসন ঠেকাতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে তৎপরতা চালাচ্ছে জান্তা সরকার।

রাখাইনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি

রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাখাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি দেশটির সরকার।

আরও পড়ুনঃ  অন্তর্বাস বিতর্কের পর এবার ‘প্রেমিক’কে সামনে আনলেন কৃতি

সামি হামদির মতে, এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। রাখাইনে অস্থিরতা বন্ধে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ জরুরি। প্রয়োজনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়ে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্যের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল থাকা জরুরি বলে মনে করেন সামি হামদি। তার মতে, একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়াও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, ‘একটা রোডম্যাপ লাগবেই। তা না হলে আন্তর্জাতিক সহায়তাও কিন্তু মিলবে না।’

আরও পড়ুনঃ  সুদানে যুদ্ধের ময়দানই কি নির্ধারণ করছে পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ?

এ ক্ষেত্রে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শও দেন তিনি। সিরিয়ার শরণার্থীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তুরস্ক যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, বাংলাদেশ চাইলে তা বিবেচনায় নিতে পারে বলে মত তার।

তৃতীয় দেশে পাঠানোর ঝুঁকি

রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হলে বাংলাদেশকে এর জন্য ‘খেসারত’ দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন সামি হামদি।

তার আশঙ্কা, মিয়ানমার ভবিষ্যতেও সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করবে না। ফলে নতুন করে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের ঝুঁকি থেকেই যাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হলে সেটিকে মিয়ানমার নিজেদের এক ধরনের বিজয় হিসেবে দেখাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান ঢাকা চেম্বার সভাপতির

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য দেশ থেকেও বাংলাদেশে শরণার্থী আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের আরও চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

সংকটের প্রভাব পড়বে আঞ্চলিক রাজনীতিতে

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করেন সামি হামদি। দীর্ঘমেয়াদে সৃষ্ট অস্থিরতার পরিণতি ঢাকা, ওয়াশিংটন, বেইজিং ও দিল্লিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মত এই আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকের।

/এমএন

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রোহিঙ্গারা দেশে ফিরুক, তা কোনোভাবেই চায় না মিয়ানমার: সামি হামদি

আপডেটের সময়: ০৭:০০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে রাখাইনে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান


নতুন-পুরোনো মিলিয়ে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে সংকটে রয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরতে চাইলেও প্রত্যাবাসনের বাস্তব সম্ভাবনা এখনো তৈরি হয়নি।

শরণার্থী ও উদ্বাস্তুদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক সামি হামদির মতে, রাষ্ট্রীয় পরিচয়হীন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানামুখী চক্রান্ত করছে মিয়ানমার। তার দাবি, রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক—এটা কোনোভাবেই চায় না মিয়ানমার। বরং প্রত্যাবাসন ঠেকাতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে তৎপরতা চালাচ্ছে জান্তা সরকার।

রাখাইনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি

রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাখাইনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেনি দেশটির সরকার।

আরও পড়ুনঃ  নাটকের গানে প্রথমবার, সজীব শানের কণ্ঠে ‘মন বাড়ি’

সামি হামদির মতে, এই পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। রাখাইনে অস্থিরতা বন্ধে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্যোগ জরুরি। প্রয়োজনে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন পাঠিয়ে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দেশে রাজনৈতিক ঐকমত্যের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল থাকা জরুরি বলে মনে করেন সামি হামদি। তার মতে, একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়াও কঠিন হবে।

তিনি বলেন, ‘একটা রোডম্যাপ লাগবেই। তা না হলে আন্তর্জাতিক সহায়তাও কিন্তু মিলবে না।’

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৪ দেশের ভিসা ছাড়ের চুক্তি, কোন পাসপোর্টে মিলবে সুবিধা?

এ ক্ষেত্রে তুরস্কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শও দেন তিনি। সিরিয়ার শরণার্থীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তুরস্ক যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, বাংলাদেশ চাইলে তা বিবেচনায় নিতে পারে বলে মত তার।

তৃতীয় দেশে পাঠানোর ঝুঁকি

রোহিঙ্গাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো হলে বাংলাদেশকে এর জন্য ‘খেসারত’ দিতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন সামি হামদি।

তার আশঙ্কা, মিয়ানমার ভবিষ্যতেও সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করবে না। ফলে নতুন করে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের ঝুঁকি থেকেই যাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হলে সেটিকে মিয়ানমার নিজেদের এক ধরনের বিজয় হিসেবে দেখাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই সংকট বাড়ে’

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য দেশ থেকেও বাংলাদেশে শরণার্থী আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের আরও চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

সংকটের প্রভাব পড়বে আঞ্চলিক রাজনীতিতে

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান না হলে এর প্রভাব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে মনে করেন সামি হামদি। দীর্ঘমেয়াদে সৃষ্ট অস্থিরতার পরিণতি ঢাকা, ওয়াশিংটন, বেইজিং ও দিল্লিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মত এই আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকের।

/এমএন