ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা নয়, তসলিমার মন্তব্যের জবাব দিলেন অভিজিত ৪ আগস্ট: ইতিহাসের পাতায় আজকের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হামজা-শমিতদের পর বাংলাদেশ পাচ্ছে আরেক প্রবাসী ফুটবলার রুশ সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ৭ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকা ও মার্কেট বন্ধ থাকবে ইনফান্তিনোর পাশে নেই সার্বিয়া-সুইডেন, ফিফা সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে চাপ ২ কারণে ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ানরা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাস এখন রিয়াদে, ঢাকার অবস্থান ৩০তম জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধনের রূপরেখা ঠিক করতে আজ বসছে বিশেষ কমিটি
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সুদিন ফেরাতে ৫ বছরে পাট রপ্তানি দ্বিগুণের লক্ষ্য সরকারের

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ সময় দেখুন

 

দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট খাতে আবারও গতি ফেরাতে পাঁচ বছর মেয়াদি বড় পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। ২০৩১ সালের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং উচ্চমূল্যের পাটপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তরের তৈরি করা ‘বাংলাদেশ পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’-এর খসড়ায় এসব লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রপ্তানি আয় ৮২ কোটি থেকে ১৬৪ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য

খসড়া কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে বছরে প্রায় ৮২ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। ২০৩১ সালের মধ্যে এই আয় বাড়িয়ে ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১২.৪৯ শতাংশ, তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি

এ ছাড়া কাঁচা পাটের উৎপাদন ১১৫ থেকে ১২০ লাখ বেলে উন্নীত করা, দেশের উৎপাদিত পাটবীজ দিয়ে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ এবং মূল্য সংযোজিত পাটপণ্যের অংশ ৪৫ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে দেশে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার স্থাপন এবং পাট খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমেছে রপ্তানি, বেড়েছে চ্যালেঞ্জ

গত কয়েক বছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট খাতের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ১১৬ কোটি ডলার। তবে চার বছর পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ডলারে

আরও পড়ুনঃ  ১ অক্টোবর যোগদান করবেন প্রাথমিকের ১৪ হাজার ৩৮৪ সহকারী শিক্ষক

রপ্তানি কমার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—উচ্চমূল্যের পাটপণ্যের ঘাটতি, সীমিত বাজার, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, ভারতের আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এবং উৎপাদন সক্ষমতার সংকট।

এ ছাড়া দেশের ২৬৬টি পাটকলের মধ্যে ৭৩টি বন্ধ থাকা, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের অভাব এবং পাট অধিদপ্তরের জনবল সংকটকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

নতুন বাজার ও উচ্চমূল্যের পণ্যে জোর

বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৫২টি দেশে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে। তবে মোট রপ্তানির প্রায় ৬৩ শতাংশই তুরস্ক, চীন ও ভারতের বাজারনির্ভর

এই নির্ভরতা কমাতে নতুন বাজার খোঁজা এবং কাঁচা পাটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমূল্যের পাটপণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

আরও পড়ুনঃ  মোজতবা খামেনির অবস্থান খুঁজতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, নির্ভরতা বাড়ছে মানব গোয়েন্দা তথ্যে

পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির বলেন, পাট খাত নিয়ে সরকার আশাবাদী। পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরি হয়েছে। অংশীজনদের মতামত নেওয়ার পর তা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক বলেন, রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে পাটকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের নতুন কর্মপরিকল্পনা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও তা যেন অতীতের মতো শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের পুরোনো গৌরবের পাট খাত আবারও রপ্তানি আয়ের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা নয়, তসলিমার মন্তব্যের জবাব দিলেন অভিজিত

সুদিন ফেরাতে ৫ বছরে পাট রপ্তানি দ্বিগুণের লক্ষ্য সরকারের

আপডেটের সময়: ০৯:৩২:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

দেশের ঐতিহ্যবাহী পাট খাতে আবারও গতি ফেরাতে পাঁচ বছর মেয়াদি বড় পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে সরকার। ২০৩১ সালের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় দ্বিগুণ করার পাশাপাশি পাটবীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং উচ্চমূল্যের পাটপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তরের তৈরি করা ‘বাংলাদেশ পাট খাত উন্নয়ন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-৩১)’-এর খসড়ায় এসব লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রপ্তানি আয় ৮২ কোটি থেকে ১৬৪ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য

খসড়া কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে বছরে প্রায় ৮২ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়। ২০৩১ সালের মধ্যে এই আয় বাড়িয়ে ১৬৪ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মোজতবা খামেনির অবস্থান খুঁজতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, নির্ভরতা বাড়ছে মানব গোয়েন্দা তথ্যে

এ ছাড়া কাঁচা পাটের উৎপাদন ১১৫ থেকে ১২০ লাখ বেলে উন্নীত করা, দেশের উৎপাদিত পাটবীজ দিয়ে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ এবং মূল্য সংযোজিত পাটপণ্যের অংশ ৪৫ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে দেশে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার স্থাপন এবং পাট খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কমেছে রপ্তানি, বেড়েছে চ্যালেঞ্জ

গত কয়েক বছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট খাতের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ১১৬ কোটি ডলার। তবে চার বছর পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮২ কোটি ডলারে

আরও পড়ুনঃ  হজ নিবন্ধনে মিলছে না সাড়া, কোটা পূরণ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

রপ্তানি কমার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—উচ্চমূল্যের পাটপণ্যের ঘাটতি, সীমিত বাজার, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, ভারতের আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এবং উৎপাদন সক্ষমতার সংকট।

এ ছাড়া দেশের ২৬৬টি পাটকলের মধ্যে ৭৩টি বন্ধ থাকা, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগারের অভাব এবং পাট অধিদপ্তরের জনবল সংকটকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

নতুন বাজার ও উচ্চমূল্যের পণ্যে জোর

বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৫২টি দেশে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে। তবে মোট রপ্তানির প্রায় ৬৩ শতাংশই তুরস্ক, চীন ও ভারতের বাজারনির্ভর

এই নির্ভরতা কমাতে নতুন বাজার খোঁজা এবং কাঁচা পাটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও উচ্চমূল্যের পাটপণ্য রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

আরও পড়ুনঃ  ৩০ জুলাইয়ের স্বর্ণের দাম: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা

পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির বলেন, পাট খাত নিয়ে সরকার আশাবাদী। পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার খসড়া তৈরি হয়েছে। অংশীজনদের মতামত নেওয়ার পর তা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) সভাপতি তাপস প্রামাণিক বলেন, রপ্তানি আয়ের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে পাটকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সরকারের নতুন কর্মপরিকল্পনা ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও তা যেন অতীতের মতো শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের পুরোনো গৌরবের পাট খাত আবারও রপ্তানি আয়ের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।