সুন্দরবনের কটকা এলাকায় পর্যটকবাহী জাহাজে হামলা বা ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় জেলেদের ওপর হামলার চেষ্টা করা একটি সন্দেহভাজন চক্রকে ধাওয়া করতে গিয়ে বনরক্ষীদের গুলিবর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে কটকা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার বিভিন্ন সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, কটকা পয়েন্টে নোঙর করে থাকা ‘দি ওয়েভ-২’ নামের একটি বিলাসবহুল পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
আসলে কী ঘটেছিল
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, পর্যটকবাহী কোনো জাহাজকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়নি। স্থানীয় জেলেদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি সন্দেহভাজন দল—এমন খবর পেয়ে কটকা ক্যাম্পের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎপরতা শুরু করেন।
সন্দেহজনক কয়েকটি নৌযানকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে সতর্ক করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। পরে বনরক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুড়লে নৌযানগুলো সমুদ্রের দিকে সরে যায়।
পর্যটকবাহী নৌযানে কোনো হামলা হয়নি
বন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সময় ওই এলাকার আশপাশে কয়েকটি পর্যটকবাহী নৌযান অবস্থান করছিল। তবে সেগুলোর কোনোটি হামলা বা ডাকাতির শিকার হয়নি এবং কোনো পর্যটকও ঝুঁকির মধ্যে পড়েননি।
তিনি বলেন, ঘটনাটিকে পর্যটকবাহী জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা হিসেবে যেভাবে প্রচার করা হয়েছে, তা সঠিক নয়।
‘দি ওয়েভ-২’ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
‘দি ওয়েভ-২’ জাহাজের স্বত্বাধিকারী আবু সায়েম বাবুও জানিয়েছেন, তাদের জাহাজে কোনো হামলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
তিনি বলেন, ভিত্তিহীন খবর ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের পর্যটন নিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। সুন্দরবনের সামগ্রিক পরিবেশ নিরাপদ রয়েছে এবং পর্যটকেরা নির্বিঘ্নে সেখানে ভ্রমণ উপভোগ করছেন।
বন বিভাগ ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কটকার ঘটনায় পর্যটকবাহী কোনো জাহাজে ডাকাতি বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিবেদকের নাম 


























