ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সিআইডি-ডিবি পরিচয়ে মামলার বাদীদের সঙ্গে প্রতারণা, মূলহোতা গ্রেপ্তার তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে গাইবান্ধায় সিপিবির বিক্ষোভ এটিইউ ও সিটিটিসির নাম বদলে নতুন কাঠামো মেদ কমাতে কার্বোহাইড্রেট বাদ নয়, বেছে খান যেসব খাবার আইফোন চুরির অভিযোগে যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর, কেটে দেওয়া হলো চুল তানভীরের নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার, ‘ভিত্তিহীন’ বলল বগুড়া কারা কর্তৃপক্ষ অপ্রতিমকে নিয়ে ফেক আইডিতে অপপ্রচার, থানায় জিডি বাবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জাসদ কার্যালয় ঘিরে যুবদলের অবস্থান, অর্ধশতাধিককে হেফাজতে নিল পুলিশ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপে জ্বালানি দামের নতুন সংকটের আশঙ্কা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সুন্দরবনে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা, কমছে পর্যটক; প্রস্তুত ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ সময় দেখুন

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটক কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটনের মৌসুম। শীতকালে বনের নদী-খাল ও আবহাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য অনুকূল থাকায় এ সময়েই সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

গত কয়েক অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে দেশি পর্যটক ছিলেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৯ এবং বিদেশি ২ হাজার ২৬১ জন। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  আবারও রিমান্ডে এমপি গাজী নজরুল

২০১৯-২০ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৯ জন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ২১১ জনে। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে পর্যটক বেড়ে হয় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন।

এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ জনে। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ টাকা।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে পর্যটন জাহাজে করে সুন্দরবনে গেছেন মাত্র প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক। করমজলসহ বিভিন্ন স্পটে ছোট নৌযানে যাওয়া দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমেছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ধীরে ধীরে কমছে। অক্টোবর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এখনো প্রত্যাশিত বুকিং পাওয়া যায়নি। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের ভাষণ শুনে জাতিসংঘে বদলে দেয়া হয় ইরানি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য

তার মতে, সুন্দরবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট এবং পর্যটকদের অন্য গন্তব্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা পর্যটক কমার অন্যতম কারণ।

এদিকে সুন্দরবনে পর্যটন বাড়াতে এবং একই সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। এতে গতানুগতিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহাপরিকল্পনাটি তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনাটি সুন্দরবনের পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রোডম্যাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গতি আসবে।

আরও পড়ুনঃ  রাস্তায় বের হলেই এখন অনেকে ‘ফুফু’ বলে ডাকে: দীপা খন্দকার

মহাপরিকল্পনায় বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় পর্যটনের অর্থ দেশের ভেতরেই ঘুরলেও বিদেশি পর্যটক বাড়লে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসবে। ফলে সুন্দরবনকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে খুলনায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রচারে রোববার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের উদ্যোগে বিশেষ রোড শোর আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাট থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত এ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সিআইডি-ডিবি পরিচয়ে মামলার বাদীদের সঙ্গে প্রতারণা, মূলহোতা গ্রেপ্তার

সুন্দরবনে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা, কমছে পর্যটক; প্রস্তুত ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা

আপডেটের সময়: ০৬:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটক কমে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটনের মৌসুম। শীতকালে বনের নদী-খাল ও আবহাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য অনুকূল থাকায় এ সময়েই সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে।

গত কয়েক অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে দেশি পর্যটক ছিলেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৯ এবং বিদেশি ২ হাজার ২৬১ জন। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯০ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  রাস্তায় বের হলেই এখন অনেকে ‘ফুফু’ বলে ডাকে: দীপা খন্দকার

২০১৯-২০ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৯ জন। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ২১১ জনে। পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২১-২২ সালে পর্যটক বেড়ে হয় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন।

এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ জনে। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ টাকা।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পর্যটকের সংখ্যা কমে প্রায় ১ লাখে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে পর্যটন জাহাজে করে সুন্দরবনে গেছেন মাত্র প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক। করমজলসহ বিভিন্ন স্পটে ছোট নৌযানে যাওয়া দর্শনার্থীর সংখ্যাও কমেছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ধীরে ধীরে কমছে। অক্টোবর থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও এখনো প্রত্যাশিত বুকিং পাওয়া যায়নি। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন মৌসুম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নোয়াখালীতে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারী বরখাস্ত

তার মতে, সুন্দরবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট এবং পর্যটকদের অন্য গন্তব্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা পর্যটক কমার অন্যতম কারণ।

এদিকে সুন্দরবনে পর্যটন বাড়াতে এবং একই সঙ্গে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০ বছর মেয়াদি ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। এতে গতানুগতিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহাপরিকল্পনাটি তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এর ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, মহাপরিকল্পনাটি সুন্দরবনের পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রোডম্যাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গতি আসবে।

আরও পড়ুনঃ  মরিয়মের মৃত্যুর সময় ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটেই ছিলেন এমপি নজরুল

মহাপরিকল্পনায় বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশীয় পর্যটনের অর্থ দেশের ভেতরেই ঘুরলেও বিদেশি পর্যটক বাড়লে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসবে। ফলে সুন্দরবনকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে খুলনায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রচারে রোববার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের উদ্যোগে বিশেষ রোড শোর আয়োজন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাট থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত এ কর্মসূচি হওয়ার কথা রয়েছে।