রাজশাহীর শাহ মখদুম থানার ছায়ানীড় আবাসিক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর তারেকের ভাড়া বাসায় তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফয়সাল বাঁধন (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে কীভাবে বা কারা তাকে গুলি করেছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ওই বাসায় মীর তারেকসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধ ফয়সাল বাঁধন নগরীর সাহেববাজার এলাকার বাসিন্দা এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তারা একসঙ্গে চলাফেরা করতেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচার করেন। হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বেলা ১১টার দিকে তাকে ৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পেট থেকে একটি গুলি বের করা হয়, যা পিস্তলের বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর পুলিশ ও সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। এ সময় একটি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, গুলির খোসা, ককটেল সদৃশ বস্তু ও কিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, তাই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলের পাঁচতলা ভবনটি নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাঈদ আল মারজুখের বাবার মালিকানাধীন। ভবনটির একটি কক্ষ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মীর তারেক ভাড়া নেন এবং সেটিই তিনি নিয়মিত ব্যবহার করতেন।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মীর তারেকসহ কয়েকজন ওই স্থান ত্যাগ করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে মীর তারেকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আহত ফয়সাল বাঁধন সুস্থ হলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কক্ষটি কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 























