ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, তেলের দাম কমার আশা ট্রাম্পের খুলনায় পরিত্যক্ত ভবনের রান্নাঘর থেকে অজ্ঞাত যুবতীর মরদেহ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আসিম মুনিরের বৈঠক অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে রেভ পার্টি, আটক ৮৪ ৪০ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে বৃষ্টির পূর্বাভাস জানার সুবিধা ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা শাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর ভবনে আগুনের খবর, ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস পদ্মা-তিস্তায় ব্যারাজ, ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর রংপুর ও রাজশাহী সফর শেষে চট্টগ্রামের পথে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আদলে সাজ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ মেঘনা আলমের
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

‘স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেওয়া হবে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি’: প্রধানমন্ত্রী

বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দল অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবে, তবে সেই বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদে গঠনমূলক আলোচনা চান প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, আর অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মূল কাজ হলো দেশের স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা, যুক্তিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।

তিনি বলেন, সরকারি দলই শুধু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে কিংবা বিরোধী দলই কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, চিকিৎসাসেবা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছেন।

জুলাই শহীদ ও আহতদের পাশে থাকার আহ্বান

বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানাতে সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা, তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার অর্থ হলো আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের পাশে থাকা এবং তাঁদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করা।

তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছে।

শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিল রয়েছে। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।

রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করাও শহীদদের প্রত্যাশার অংশ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকার ওপর জোর

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আরও মনোযোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ‘ভিপি নুর মানেই বারুদ’, জামায়াত-এনসিপিকে নিয়ে রাশেদ খাঁনের মন্তব্য

তিনি বলেন, হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোগীরা যেন পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের সচেতন হতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উন্নয়নকাজে প্রকৃতি সংরক্ষণের আহ্বান

ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও দেশের উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। তবে এসব কাজের সময় প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা জরুরি।

তিনি বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও ওসমানী উদ্যানকে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা কামনা করেন।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন

সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পৌঁছান। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করে বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি ৯০ ফুট উঁচু এবং প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এতে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

আরও পড়ুনঃ  কারাগারে থেকেও বলিউডে হামলা-হুমকির অভিযোগ, কে এই লরেন্স বিষ্ণোই?

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

২৩ একরজুড়ে আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ, নতুন বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ দ্বীপ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্যানটির দুই স্তরে সাজানো কাঠামোয় সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল আলমসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, তেলের দাম কমার আশা ট্রাম্পের

‘স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেওয়া হবে শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি’: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটের সময়: ১০:০৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দল অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবে, তবে সেই বিরোধিতা হতে হবে গঠনমূলক। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদে গঠনমূলক আলোচনা চান প্রধানমন্ত্রী

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, আর অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করছে। সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মূল কাজ হলো দেশের স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা, যুক্তিতর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।

তিনি বলেন, সরকারি দলই শুধু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে কিংবা বিরোধী দলই কেবল জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, চিকিৎসাসেবা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছেন।

জুলাই শহীদ ও আহতদের পাশে থাকার আহ্বান

বিরোধী দলের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানাতে সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা, তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার অর্থ হলো আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের পাশে থাকা এবং তাঁদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করা।

তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছে।

শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে মিল রয়েছে। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।

রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করাও শহীদদের প্রত্যাশার অংশ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনাকারী হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্ন হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকার ওপর জোর

রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে আরও মনোযোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  দুদকের মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান শেখ আব্দুল হান্নান

তিনি বলেন, হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রোগীরা যেন পরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারেন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের সচেতন হতে হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থল পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উন্নয়নকাজে প্রকৃতি সংরক্ষণের আহ্বান

ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও দেশের উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে। তবে এসব কাজের সময় প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা জরুরি।

তিনি বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও ওসমানী উদ্যানকে রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা কামনা করেন।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন

সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পৌঁছান। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করে বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটি ৯০ ফুট উঁচু এবং প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এতে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। সামনে রয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

আরও পড়ুনঃ  কারাগারে থেকেও বলিউডে হামলা-হুমকির অভিযোগ, কে এই লরেন্স বিষ্ণোই?

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

২৩ একরজুড়ে আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ, নতুন বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ দ্বীপ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

উদ্যানটিতে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্যানটির দুই স্তরে সাজানো কাঠামোয় সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের পথ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল আলমসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।