খুলনা নগরের নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় বস্তাবন্দী অবস্থায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)–এর মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি তার বাবা আলিম হোসেন ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি খুলনা নগরের বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই আলিম হোসেনকে ধরতে বিশেষ অভিযান চলছিল। তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতেও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে শনিবার ডুমুরিয়া বাজার এলাকায় ফিরে এলে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আলিম হোসেনকে সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রোববার (১৯ জুলাই) তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
এর আগে, গত ১১ জুলাই কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, আরফানার মা আরিফা ইয়াসমিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাবাকে গ্রেপ্তারের অভিযান জোরদার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সরকারি ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরফানা সম্প্রতি নিজের পছন্দে বিয়ে করেছিলেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হলেও তিনি আবার সেখানে ফিরে যেতে চাইতেন। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ হতো।
গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে প্রথমে মা তাকে মারধর করেন। পরে বাবা কাঠের একটি ফালি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, মা ও বাবা—উভয়েই মাদকাসক্ত।
হত্যার পর প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে আরফানার মরদেহ কবুতরের খাবার বহনের একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যান আলিম হোসেন।
পরদিন পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় সদর থানার উপপরিদর্শক লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আরফানার মা মরদেহ শনাক্ত করেন। তদন্তে প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 


























