বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব ও এর ফলে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে। টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে একসময় যে রোগ প্রায় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল, সেই হামের পুনরুত্থানকে লেখক রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার ফল হিসেবে দেখছেন।
বিশ্বজুড়ে হামের টিকা আবিষ্কারের পর শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। কার্যকর টিকাদান নিশ্চিত করে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ গড়ে তোলা হলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হয়। কিন্তু এই সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়—বাংলাদেশে বর্তমানে সেই বাস্তবতাই দেখা যাচ্ছে।
লেখকের মতে, গত কয়েক মাসে টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত, টিকা সরবরাহে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অসামঞ্জস্যের কারণে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিনই নতুন শিশু মৃত্যুর খবর সামনে আসছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে দোষারোপের প্রবণতা বাড়লেও কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিসেফের সতর্কবার্তা ও আগাম ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকার বিষয়টি সামনে এনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
লেখকের মতে, টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে দেরি, দরপত্র প্রক্রিয়ায় জটিলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। এসব বিষয়ে কারা দায়ী—তা নির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া সংকট মোকাবিলায় জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা, আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশু চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মতামতে আরও বলা হয়েছে, শিশু মৃত্যুকে রাজনৈতিক বিতর্কে না টেনে এটিকে একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
লেখকের মতে, প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুমৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং এটি নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিফলন। তাই দায় নির্ধারণ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
প্রতিবেদকের নাম 


























