সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে অনুমোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জাতীয় বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্ম দশক (২০২১-২০৩০)–এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাবে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।
এছাড়া মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
প্রতিবেদকের নাম 




















