বগুড়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আত্মহত্যাকারীদের একটি বড় অংশই নারী শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। হতাশা, বিষণ্নতা, প্রেমঘটিত সমস্যা, সাইবার বুলিংসহ নানা কারণে মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলিং, হয়রানি এবং মানসিক চাপ অনেক শিক্ষার্থীকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। অনেকে অভিযোগ করেন, এসব সমস্যার পরও স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পর্যাপ্ত কাউন্সিলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেই।
অভিভাবকরা বলছেন, পরিবারের সঙ্গে সন্তানদের যোগাযোগ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার এবং নৈতিক শিক্ষার অভাবও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মনে করেন, বয়স সন্ধিকালে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে হতাশা ও আবেগজনিত সংকট বেশি দেখা দেয়। এ সময় যথাযথ দিকনির্দেশনা ও মানসিক সহায়তা না পেলে ঝুঁকি বাড়ে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক, প্রেম ও ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও সংক্রান্ত জটিলতা অনেক সময় বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে আত্মহত্যা প্রতিরোধে মূল ভূমিকা নিতে হবে পরিবার ও সমাজকে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বগুড়া জেলায় ১১৬ জন আত্মহত্যা করেছেন। এর আগের বছরগুলোতেও এই সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি ছিল বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং সচেতনতার ঘাটতি—সব মিলিয়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। তারা মনে করেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য।
প্রতিবেদকের নাম 

























