নেত্রকোণার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে নেত্রকোণা মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে রিপন মিয়াকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করে নেত্রকোণা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার পর আয়োজিত সালিশ বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ওই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সম্প্রতি সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে এক কিশোরীর সঙ্গে রিপন মিয়ার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সালিশে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, অভিযোগ স্বীকারের পর কিশোরীর ভবিষ্যৎ ও বিয়ের খরচ বাবদ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা বসতভিটা বাজেয়াপ্ত এবং সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে ভুক্তভোগী পরিবার দরিদ্র হওয়ায় শুরুতে তারা আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল।
অন্যদিকে, রিপন মিয়ার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণ মামলার তদন্তের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকের বৈধতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















