
বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের ৩৪টি দেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। তবে চুক্তি থাকলেও সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সুবিধা সীমিত কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহির্গমন শাখা-২ থেকে সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত বিদ্যমান চুক্তির ভিত্তিতে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
যেসব দেশের সঙ্গে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি
বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, লাওস, বেলারুশ, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কুয়েত, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, তুরস্ক, ভারত, চীন, ব্রুনেই, ওমান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, কাতার, বতসোয়ানা, কসোভো, দক্ষিণ কোরিয়া, সার্বিয়া, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান, থাইল্যান্ড, তিমুর-লেস্তে, গাম্বিয়া, পাকিস্তান ও মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে।
তবে কোন দেশের নাগরিক কতদিন ভিসা ছাড়া থাকতে পারবেন কিংবা চুক্তিটি কার্যকর হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে দেশভেদে ভিন্নতা রয়েছে।
৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকা যাবে যেসব দেশে
সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টধারীরা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া অবস্থান করতে পারেন।
একই ধরনের সর্বোচ্চ ৯০ দিনের সুবিধা রয়েছে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চিলি, তুরস্ক, লাওস ও বেলারুশের ক্ষেত্রেও।
অন্যদিকে ভারতের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪৫ দিন।
৩০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা
বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তিতে সর্বোচ্চ ৩০ দিন ভিসা ছাড়া থাকার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, ওমান, সার্বিয়া, ব্রাজিল, কাতার, কসোভো, বতসোয়ানা, আর্জেন্টিনা, কাজাখস্তান ও পাকিস্তান।
পাকিস্তানের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তিটি ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট ঢাকায় স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীরা সর্বোচ্চ ৩০ দিন ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন।
চীনের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে কূটনৈতিক, সরকারি এবং সাধারণ সরকারি চাকরির পাসপোর্টধারীদের জন্য।
তবে এই চুক্তির আওতায় ভিসা ছাড়া অবস্থানের নির্দিষ্ট সময়সীমা তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।
জাপান ও উজবেকিস্তানে সুবিধা সীমিত
জাপান ও উজবেকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি কেবল কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য প্রযোজ্য।
তবে উজবেকিস্তানের সঙ্গে করা চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় এটি এখনো প্রস্তাবিত ভিসা ওয়েভার অ্যাগ্রিমেন্ট হিসেবে রয়েছে।
মালদ্বীপে সবচেয়ে বিস্তৃত সুবিধা
অন্য দেশগুলোর তুলনায় মালদ্বীপের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা অব্যাহতির সুযোগ সবচেয়ে বিস্তৃত। সব ধরনের বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া মালদ্বীপে অবস্থান করতে পারেন।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালদ্বীপে গেলে এই ভিসামুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
কয়েকটি চুক্তি এখনো কার্যকর হয়নি
বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে এখনো ভিসা অব্যাহতি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
তিমুর-লেস্তের সঙ্গে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর, মঙ্গোলিয়ার সঙ্গে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গে ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এসব চুক্তিকে এখনো প্রস্তাবিত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে গাম্বিয়ার সঙ্গে ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য পারস্পরিক ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে এর বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নোটিশও প্রকাশ করেছে।
সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টে কি ভিসা লাগবে?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—৩৪ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি থাকা মানেই সাধারণ পাসপোর্টধারী সব বাংলাদেশির জন্য ভিসা উঠে গেছে, এমন নয়।
বেশিরভাগ চুক্তিই কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টের জন্য প্রযোজ্য। তাই সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের বিদেশ ভ্রমণের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ ভিসানীতি, প্রবেশের শর্ত ও অবস্থানের মেয়াদ যাচাই করতে হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















