ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ পে-স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্তে দেরি হলে সংকট আরও বাড়বে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৪ দেশের ভিসা ছাড়ের চুক্তি, কোন পাসপোর্টে মিলবে সুবিধা? দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে আরও ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার এআই ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও সফরে মির্জা ফখরুল কৃষি মৌসুমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩.৬৫ লাখ টন সার আমদানি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনই বলা যাচ্ছে না: সিইসি আবারও ক্যানসার শনাক্ত, নতুন লড়াইয়ে সামিয়া আফরিন
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

এআই ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি প্রশাসনকে আরও দক্ষ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের ফলে নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘স্ট্র্যাটেজিক ইউজ অব এআই টুলস অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ফর পিএমও অফিসিয়ালস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ (ইডিজিই) প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। এর সঠিক ব্যবহার প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও সফরে মির্জা ফখরুল

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়; বরং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন আরও সহজ করা। এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নাগরিকরা দ্রুত ও সহজে সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যনির্ভর এবং প্রশাসন হবে কার্যকর ও জনবান্ধব।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃষি, শিল্প ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তার মতে, তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের গতি বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে ইতোমধ্যে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  রাজনীতির ময়দান পেরিয়ে বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল, পেলেন ২৫৫ ভোট

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করাই হবে এর মূল সাফল্য। এআইয়ের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো হলে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও শ্রমসাধ্য কাজ আরও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, স্মার্ট জনপ্রশাসন গড়ে উঠলে কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমবে। এতে তারা গুরুত্বপূর্ণ, সৃজনশীল ও নীতিনির্ধারণী কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন এবং নাগরিকরা দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এ কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের এআই, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের বিষয়ে নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুনঃ  নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘিরে সোনাগাজীতে বাড়তি নিরাপত্তা

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে সমন্বয় করে ‘হিউম্যান-এআই’ সহযোগিতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এআই ব্যবহারের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সরকারি কাজে এআই টুল ব্যবহারের মাধ্যমে সময় ও শ্রম কমানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার হাতে সনদপত্র তুলে দেন জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

এআই ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা

আপডেটের সময়: ১০:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি প্রশাসনকে আরও দক্ষ, দ্রুত ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারের ফলে নাগরিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘স্ট্র্যাটেজিক ইউজ অব এআই টুলস অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি ফর পিএমও অফিসিয়ালস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ (ইডিজিই) প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রযুক্তি। এর সঠিক ব্যবহার প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যরাতে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়; বরং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন আরও সহজ করা। এমন একটি স্মার্ট সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নাগরিকরা দ্রুত ও সহজে সেবা পাবেন, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যনির্ভর এবং প্রশাসন হবে কার্যকর ও জনবান্ধব।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃষি, শিল্প ও ডিজিটাল বিপ্লবের পর বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তার মতে, তথ্য বিশ্লেষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কাজের গতি বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে ইতোমধ্যে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সহায়ক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও সফরে মির্জা ফখরুল

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করাই হবে এর মূল সাফল্য। এআইয়ের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানো হলে সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও শ্রমসাধ্য কাজ আরও সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, স্মার্ট জনপ্রশাসন গড়ে উঠলে কর্মকর্তাদের নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের চাপ কমবে। এতে তারা গুরুত্বপূর্ণ, সৃজনশীল ও নীতিনির্ধারণী কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন এবং নাগরিকরা দ্রুত ও মানসম্মত সেবা পাবেন।

তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। এ কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের এআই, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের বিষয়ে নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুনঃ  নগদে ম্যানেজার পদে নিয়োগ, আবেদন করা যাবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে মানুষের দক্ষতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাকে সমন্বয় করে ‘হিউম্যান-এআই’ সহযোগিতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা জানান, পর্যায়ক্রমে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের এ ধরনের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি এআই ব্যবহারের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সরকারি কাজে এআই টুল ব্যবহারের মাধ্যমে সময় ও শ্রম কমানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার হাতে সনদপত্র তুলে দেন জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।