
নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায়কে ঘিরে ফেনীর সোনাগাজীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নুসরাতের বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম জানান, নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায়কে কেন্দ্র করে তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগে নুসরাতের বাড়িতে দুইজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে সেখানে আরও সাতজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়নি। বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করায় নুসরাতের পরিবারও স্বস্তিতে রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে আজ হাইকোর্টে নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, নাকি সাজায় কোনো পরিবর্তন আসবে—এখন সেদিকেই তাকিয়ে নুসরাতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা।
নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আগের রায় বহাল থাকার প্রত্যাশা করছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিরা যেন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পার পেয়ে না যায়, সেটিই তাদের দাবি। বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ায় তারা সন্তুষ্ট হলেও পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন বলে জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষ হয়। পরে আদালত ২৪ আগস্ট রায়ের দিন ধার্য করেন।
বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন, তৎকালীন পৌর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলমসহ মামলার অন্যান্য আসামিরা।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে এটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চলতি মাসে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোছা. রোহানী সিদ্দীকা এবং আসামিপক্ষে সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও মুহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















