ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননের নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা দিতে হিজবুল্লাহর হাতে ২০ কোটি মার্কিন ডলার তুলে দিয়েছে ইরান। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৪৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সরাসরি অবগত দুটি সূত্র। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থ স্থানান্তরের নানা ঝুঁকির মধ্যেই গত মাসে এই অর্থ লেবাননে পৌঁছেছে।
হিজবুল্লাহর এক দায়িত্বশীল প্রতিনিধিও ইরান থেকে এই অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ বিতরণের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রাপ্ত অর্থের একটি বড় অংশ দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ডলার করে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। যেসব পরিবারের বাড়িঘর বা পুরো গ্রাম ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে কিংবা এখনো সামরিক উপস্থিতির কারণে বসবাসের অনুপযোগী, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সূত্রগুলোর দাবি, অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত মধ্যস্থতাকারীরা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়েছেন বা দাবি করেছেন। স্বাভাবিক লেনদেনের তুলনায় এই কমিশন প্রায় চার গুণ বেশি। তবে কীভাবে এবং কোন পথে বিপুল অর্থ লেবাননে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি অভিযানের পর হিজবুল্লাহর সমর্থক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এটিই ইরানের প্রথম বড় অঙ্কের সরাসরি আর্থিক সহায়তা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ স্থানান্তরের ওপর কঠোর নজরদারির মধ্যেও এই লেনদেন হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের কেউ কেউ এই অর্থকে যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নানা নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক বাধা সত্ত্বেও সংগঠনটি যোদ্ধা, নিহত সদস্যদের পরিবার এবং সমর্থকদের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
প্রতিবেদকের নাম 





















