আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা জরুরি। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে শেখার সক্ষমতা ছাড়া ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হবে।
স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ তজল্লী আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উপপরিচালক মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। স্কুলের সমাবেশ, ক্রিকেট খেলা, গ্রন্থাগার এবং শিক্ষকদের স্মৃতি এখনো তাঁর মনে অমলিন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গ্রন্থাগারের কার্যক্রম আগের মতো সক্রিয় না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব না থাকায় বিস্ময় জানিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে কম্পিউটার ল্যাব ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যায় না। সেখানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামে সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন
এর আগে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গায় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এটি দেশে এ ধরনের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক, যেখানে কেবল সাইকেল আরোহীরা চলাচল করতে পারবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে সড়কের পাশে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন রয়েছে। মানুষ সাইকেল চালিয়ে কর্মস্থলে যাতায়াতের পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়ামের সুযোগও পান। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে চায় সরকার।
চট্টগ্রাম নগরীতে আরও চার-পাঁচটি সাইকেল চলাচলের পথ নির্মাণের জন্য মেয়রকে অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি নগরীর খালগুলোর দুই পাশে সম্ভাব্য স্থানে হাঁটার পথ নির্মাণ এবং মানুষের হাঁটা, দৌড়ানো ও শরীরচর্চার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
মন্ত্রী বলেন, নগরজীবনে আবাসিক ভবন ও অ্যাপার্টমেন্টকেন্দ্রিক জীবনযাপনের কারণে মানুষের শারীরিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ কমছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নারী-পুরুষ সবার জন্য হাঁটা ও ব্যায়ামের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের নাম 




















