ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সন্ধ্যার পর ক্রেতা হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, দোকান খোলা রাখার সময় বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন

রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নিয়মে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছে সংগঠনটি। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু আবেদনে স্বাক্ষর করেন।

আবেদনে ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  “আইসিসি মাসসেরার দৌড়ে সোবহানা মোস্তারি: অস্ট্রেলিয়ায় ১১৮ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস”

সংগঠনটি রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, রাপা প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, হোসাফ টাওয়ার, ফরচুন শপিং মল, টুইন টাওয়ার, সুবাস্তু শপিং কমপ্লেক্স, রাজধানী সুপার মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তান, ইসলামপুর ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মার্কেটের পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

তাদের দাবি, এসব মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপণিবিতানে ক্রেতা সংকট ও বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী কাঙ্ক্ষিত বিক্রি করতে পারছেন না। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকট আরও বাড়ছে। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতিতেও পড়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা, জমা দিতে হবে অঙ্গীকারনামা

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু মালিকরাই নন, কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার মানুষও সংকটে পড়বেন। এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের কেনাকাটার প্রবণতা বেশি থাকে। রাত ৮টায় দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ সময় হারাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  বিশেষ ভোটেই নির্ধারিত হবে নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী সরকার

তাদের দাবি, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য বাড়তি সময় পাবেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়ানো, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

এ অবস্থায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থ এবং জাতীয় অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

তবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সন্ধ্যার পর ক্রেতা হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, দোকান খোলা রাখার সময় বাড়াতে সরকারের কাছে আবেদন

আপডেটের সময়: ১২:২১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নিয়মে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছে সংগঠনটি। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু আবেদনে স্বাক্ষর করেন।

আবেদনে ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিতে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ১০ হাজার টাকায় ডাকাতদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শ্যামলকে, তিন দিন পর মিলল লাশ

সংগঠনটি রাজধানীর কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, রাপা প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, হোসাফ টাওয়ার, ফরচুন শপিং মল, টুইন টাওয়ার, সুবাস্তু শপিং কমপ্লেক্স, রাজধানী সুপার মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, গুলিস্তান, ইসলামপুর ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মার্কেটের পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।

তাদের দাবি, এসব মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপণিবিতানে ক্রেতা সংকট ও বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী কাঙ্ক্ষিত বিক্রি করতে পারছেন না। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের আর্থিক সংকট আরও বাড়ছে। কেউ কেউ ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পরিস্থিতিতেও পড়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  পুরস্কার গ্রহণে রেজা পাহলভি, জার্মানিতে শুরু বিতর্ক

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু মালিকরাই নন, কর্মচারী, তাদের পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশার মানুষও সংকটে পড়বেন। এর প্রভাব জাতীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের কেনাকাটার প্রবণতা বেশি থাকে। রাত ৮টায় দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিক্রির গুরুত্বপূর্ণ সময় হারাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা, জমা দিতে হবে অঙ্গীকারনামা

তাদের দাবি, রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হলে ক্রেতারা কেনাকাটার জন্য বাড়তি সময় পাবেন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিক্রি বাড়ানো, বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

এ অবস্থায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থ এবং জাতীয় অর্থনীতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা পর্যন্ত সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশনা জারির অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।

তবে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।