ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বিজিবির ঢাকার যানজট কমাতে বড় সিদ্ধান্ত, সরছে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল সরকারি বই পাচারের অভিযোগ, পিকআপ জব্দ; পলাতক মাদ্রাসা সুপার ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, প্রভাব মূল্যায়ন করবে সরকার অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন বুন্দেসলিগা অভিজ্ঞতায় ভর করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু জাপান–নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, আইন ও অর্থে সভাপতি পার্থ ও মুশফিকুর দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাইল জামায়াত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বড় বাজেট, বড় চ্যালেঞ্জ: ঋণ ও অর্থের জোগান নিশ্চিতের কঠিন পরীক্ষায় সরকার

দেশে আসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করছে সরকার। তবে এই বিশাল বাজেট ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণনির্ভরতা ও অর্থের জোগান নিশ্চিত করা।

চলতি বছরের তুলনায় আগামী বাজেট প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বড়। গত অর্থবছরে বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দ্রুত ব্যয় বৃদ্ধি এবং ধীর রাজস্ব প্রবৃদ্ধির কারণে সরকারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়তে হবে। মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।

আরও পড়ুনঃ  দেয়ালজুড়ে মেসির প্রতিকৃতি এঁকে আলোচনায় কুষ্টিয়ার শরীফুল

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘাটতি যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে পুরো বাজেট কাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়বে। জনপ্রিয়তার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের বোঝা বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং সঠিক নীতি গ্রহণ করলে এক বছরের মধ্যেই রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  সাম্বার ছন্দ নাকি আটলাস সিংহদের গর্জন

তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা জরুরি এবং বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ও শর্ত কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত।

অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, চলমান বড় প্রকল্পগুলো চালু রাখা গেলেও নতুন বড় প্রকল্প গ্রহণে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব খাতে সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি, যা শুধু অর্থনৈতিক ভারসাম্য নয়, আয় বৈষম্য কমাতেও সহায়ক হবে।

আরও পড়ুনঃ  ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট কমানো এবং অন্যান্য খাতে যৌক্তিক কর কাঠামো চালু করা দরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বাজেটে সরকারের সামনে একদিকে যেমন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপ থাকবে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানোর বড় চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি থেকে যায়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বিজিবির

বড় বাজেট, বড় চ্যালেঞ্জ: ঋণ ও অর্থের জোগান নিশ্চিতের কঠিন পরীক্ষায় সরকার

আপডেটের সময়: ১০:১৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

দেশে আসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করছে সরকার। তবে এই বিশাল বাজেট ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণনির্ভরতা ও অর্থের জোগান নিশ্চিত করা।

চলতি বছরের তুলনায় আগামী বাজেট প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বড়। গত অর্থবছরে বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দ্রুত ব্যয় বৃদ্ধি এবং ধীর রাজস্ব প্রবৃদ্ধির কারণে সরকারকে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়তে হবে। মোট আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে দেশি ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়বে।

আরও পড়ুনঃ  দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘাটতি যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে পুরো বাজেট কাঠামোই ঝুঁকির মুখে পড়বে। জনপ্রিয়তার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর ঋণের বোঝা বাড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং সঠিক নীতি গ্রহণ করলে এক বছরের মধ্যেই রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  আগস্টে রূপপুর থেকে আসছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা জরুরি এবং বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ও শর্ত কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত।

অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, চলমান বড় প্রকল্পগুলো চালু রাখা গেলেও নতুন বড় প্রকল্প গ্রহণে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজস্ব খাতে সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি, যা শুধু অর্থনৈতিক ভারসাম্য নয়, আয় বৈষম্য কমাতেও সহায়ক হবে।

আরও পড়ুনঃ   বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনা ক্যাম্পে পরিবর্তন, ছুটি নিলেন নিকোলাস কাপালদো

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, মৌলিক প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় ভ্যাট কমানো এবং অন্যান্য খাতে যৌক্তিক কর কাঠামো চালু করা দরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বাজেটে সরকারের সামনে একদিকে যেমন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের চাপ থাকবে, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটানোর বড় চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি থেকে যায়।