তরুণদের বেটিংয়ের ফাঁদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান, প্রশংসায় নেটিজেনরা
অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা ও এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে সোচ্চার হয়েছেন অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রুকাইয়া জাহান চমক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে অনলাইন বেটিংয়ের ঝুঁকি তুলে ধরে তরুণদের এ ধরনের জুয়ার ফাঁদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভিডিওতে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিকের পাশাপাশি বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বাস্তব অভিজ্ঞতার উদাহরণ তুলে ধরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছেন এই অভিনেত্রী।
১ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি
ভিডিওতে শিহাব নামের এক যুবকের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন চমক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সহজে আয় করার আশায় মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়ে অনলাইন বেটিং শুরু করেছিলেন শিহাব। পরে জমা অর্থ তোলা এবং হারানো টাকা ফিরে পাওয়ার আশায় স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতেও শুরু করেন তিনি।
একপর্যায়ে বেটিংয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন ওই যুবক—ভিডিওতে এমনটাই দাবি করেন চমক।
বাড়ছে অনলাইন জুয়ার বিস্তার
চমক তার ভিডিওতে জেনারেল ইকোনমিক্স ডিভিশনের (জিইডি) ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করেন। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ৫০ লাখের বেশি মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, দেশে অনলাইন জুয়ার আনুমানিক বাজারমূল্য বর্তমানে প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ডিবি তদন্তের তথ্য উল্লেখ করে চমক বলেন, একটি জুয়াড়ি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন শনাক্ত হয়েছিল।
শুধু অর্থ নয়, পারিবারিক ও মানসিক সংকটও
চমকের বক্তব্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গির কথাও উঠে আসে। তিনি বলেন, জুয়া কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও পারিবারিক জীবনের জন্যও গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ভিডিওতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ নারী ও ১১ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ জুয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হন। এ ধরনের আসক্তি পরবর্তী সময়ে আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
তারকা-ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতি আহ্বান
সামান্য প্রচারণা আয়ের বিনিময়ে বেটিং অ্যাপের লিংক বা প্রচারণা না চালাতে দেশের তারকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চমক।
তিনি ‘সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্স ২০২৫’-এর ২০ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা বা এর প্রচারণা করা গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সহজ আয়ের পথ নয়, দক্ষতার ওপর আস্থা
ভিডিওর শেষাংশে তরুণদের অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ উপার্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেদের কাজ ও দক্ষতার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেন চমক।
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন অনেক নেটিজেন। তাদের মতে, যখন অনেক তারকা ও ইনফ্লুয়েন্সার অর্থের বিনিময়ে বেটিং অ্যাপের প্রচারণা করছেন, তখন চমকের এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
প্রতিবেদকের নাম 





















