অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, ‘ম্যানট্যাক্স ওট্যাক্স’ নামের একটি বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার ফোনে প্রবেশ করতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করার পাশাপাশি ডিভাইসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ম্যালওয়্যারটি শুধু তথ্য চুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে স্পাইওয়্যার, র্যানসমওয়্যার এবং রিমোট অ্যাকসেসের মতো একাধিক সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এটি কোনো ডিভাইসে সফলভাবে প্রবেশ করলে ব্যক্তিগত তথ্য সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চুরি করতে পারে ওটিপিসহ সংবেদনশীল তথ্য
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যালওয়্যারটি ফোনে আসা এসএমএসের নোটিফিকেশন পড়তে সক্ষম। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন সেবা, ব্যাংকিং কিংবা আর্থিক লেনদেনের সময় পাঠানো ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ব্যবহারকারীর কল হিস্টোরি, কন্টাক্ট লিস্ট, ব্রাউজিং হিস্টোরি, ফোনে ইনস্টল থাকা অ্যাপ, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং গুগল অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন তথ্যও সংগ্রহ করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
নজরদারি করতে পারে ফোনের পর্দা ও ক্যামেরায়
শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, ব্যবহারকারীর অজান্তে ফোনের স্ক্রিনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার সক্ষমতাও রয়েছে ম্যালওয়্যারটির। অ্যান্ড্রয়েডের মিডিয়া প্রজেকশন সুবিধা ব্যবহার করে এটি ফোনের পর্দায় প্রদর্শিত তথ্য ধারণ ও সংরক্ষণ করতে পারে।
পাশাপাশি ডিভাইসের সামনের ও পেছনের ক্যামেরা গোপনে সক্রিয় করে ছবি তোলার এবং সেগুলো সাইবার অপরাধীদের কাছে পাঠানোর সক্ষমতাও রয়েছে বলে গবেষকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে ছড়াচ্ছে ম্যালওয়্যার
জিম্পেরিয়ামের গবেষকদের মতে, গুগল প্লে স্টোরের বাইরে থাকা বিভিন্ন তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে থাকা ক্ষতিকর APK ফাইলের মাধ্যমে ম্যানট্যাক্স ওট্যাক্স ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ফিশিং লিংক, মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণার কৌশল ব্যবহার করেও ম্যালওয়্যারটি ছড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
পুরোনো অ্যান্ড্রয়েডে ঝুঁকি বেশি
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্ড্রয়েড ৯ বা তার আগের সংস্করণে চলা স্মার্টফোনগুলো এই ম্যালওয়্যারের ঝুঁকিতে তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। তবে নতুন সংস্করণের অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরাও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নন।
তাই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অচেনা বা অবিশ্বস্ত উৎস থেকে APK ফাইল ডাউনলোড না করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ফোনে গুগল প্লে প্রটেক্ট চালু রাখা এবং নিয়মিত সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি অসতর্ক ক্লিক বা অবিশ্বস্ত উৎস থেকে ইনস্টল করা ফাইলই ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 



















