ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নতুন সরকারের প্রথম সচিব সভা আজ, গুরুত্ব পাচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশল ফেরার পথেই থেমে গেল জীবন, নাসিরনগরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত ২ দাড়ি রাখা নিয়ে কলকাতা পুলিশের ৪৭ মুসলিম সদস্যের আবেদন খারিজ তিন দফা কমার পর আবার বাড়ল সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা হাতকড়াসহ পালানোর ৯ ঘণ্টার মধ্যে সেই আওয়ামী লীগ নেতা ফের গ্রেপ্তার গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভুলে গেছে: জামায়াত আমির বিতর্ক-গুঞ্জনের পর এবার পর্দায় ‘আমরা ভাইরাল’ তাবুক অভিযানে নবীজি (সা.) যেসব স্থানে নামাজ আদায় করেছিলেন আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে এনসিপির ক্ষোভ, রাজপথে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি আমাদের মেরুদণ্ড কি সত্যিই সোজা?
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৫৯ নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৫৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময় দেখুন

কুমিল্লার চান্দিনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বিএনপি ও যুবদল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অন্তত ৫৯ নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রটি বর্তমানে ইউএনও কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

৫৯ জনের কাছ থেকে টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ১৫ জনের স্বাক্ষরে সম্প্রতি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম এবং জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  পূর্ববর্তী সরকারের লোকদেখানো পদক্ষেপে রোহিঙ্গা সংকট জটিল হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভুক্তভোগী রাশিদা বেগমের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল হোসেন তার এবং তার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে ছবি, এনআইডির ফটোকপি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেন।

পরে বিষয়টি এলাকার অন্যদের জানালে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয় বলে জানান তিনি।

কার্ড না পেয়ে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা

জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহানসহ কয়েকজন নারীও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও তারা কোনো কার্ড পাননি।

এতে কার্ড পাওয়ার পাশাপাশি দেওয়া টাকা ও কাগজপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  বরিস জনসনের ট্রেন সীমান্ত পার হতেই রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা

টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার দুই অভিযুক্তের

অভিযুক্ত যুবদল নেতা খোরশেদ আলম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, জোরপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের কথামতো ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চান্দিনা সদরে যাতায়াত এবং অনলাইনে আবেদন করার খরচ হিসেবে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত আবুল হোসেনও টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিন গ্রামের ৫৯টি আবেদনের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ও কাগজপত্র এখনো তার কাছে রয়েছে এবং কেউ টাকা ফেরত চাইলে তা ফেরত দেওয়া হবে।

‘কর্মসূচি চালু হলে কার্ড দেওয়া হবে’

চান্দিনায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম এখনো চালু হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, আগে থেকেই কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি চালু হলে তখন কার্ড দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ, হাসপাতালে বাবার মৃত্যু

তবে ফ্যামিলি কার্ডের সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে অভিযুক্তদের এই অর্থ নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

মহিচাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, খোরশেদ আলম ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তবে আবুল হোসেনের দলের কোনো পদ-পদবি নেই।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নতুন সরকারের প্রথম সচিব সভা আজ, গুরুত্ব পাচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশল

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৫৯ নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৮:৫৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার চান্দিনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই বিএনপি ও যুবদল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অন্তত ৫৯ নারীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রটি বর্তমানে ইউএনও কার্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

৫৯ জনের কাছ থেকে টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ১৫ জনের স্বাক্ষরে সম্প্রতি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম এবং জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দুই ছেলের মারামারি দেখে অসুস্থ, হাসপাতালে বাবার মৃত্যু

ভুক্তভোগী রাশিদা বেগমের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আবুল হোসেন তার এবং তার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে ছবি, এনআইডির ফটোকপি ও জনপ্রতি ৫০০ টাকা নেন।

পরে বিষয়টি এলাকার অন্যদের জানালে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয় বলে জানান তিনি।

কার্ড না পেয়ে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা

জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহানসহ কয়েকজন নারীও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার পরও তারা কোনো কার্ড পাননি।

এতে কার্ড পাওয়ার পাশাপাশি দেওয়া টাকা ও কাগজপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  বরিস জনসনের ট্রেন সীমান্ত পার হতেই রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা

টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার দুই অভিযুক্তের

অভিযুক্ত যুবদল নেতা খোরশেদ আলম টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, জোরপুকুরিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের কথামতো ফ্যামিলি কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চান্দিনা সদরে যাতায়াত এবং অনলাইনে আবেদন করার খরচ হিসেবে ওই টাকা নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত আবুল হোসেনও টাকা ও কাগজপত্র নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিন গ্রামের ৫৯টি আবেদনের জন্য কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ও কাগজপত্র এখনো তার কাছে রয়েছে এবং কেউ টাকা ফেরত চাইলে তা ফেরত দেওয়া হবে।

‘কর্মসূচি চালু হলে কার্ড দেওয়া হবে’

চান্দিনায় ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম এখনো চালু হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আবুল হোসেন বলেন, আগে থেকেই কাগজপত্র ও টাকা নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি চালু হলে তখন কার্ড দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  তিন দফা কমার পর আবার বাড়ল সোনার দাম, ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা

তবে ফ্যামিলি কার্ডের সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে অভিযুক্তদের এই অর্থ নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

মহিচাইল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, খোরশেদ আলম ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। তবে আবুল হোসেনের দলের কোনো পদ-পদবি নেই।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।