
পূর্ববর্তী সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও লোকদেখানো পদক্ষেপের কারণে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আরও বিলম্বিত ও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সরকারের জোর
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকার দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ও টেকসই সমাধানের জন্য সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বন্ধু রাষ্ট্র, দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুটি কমিটি কাজ করছে
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পৃথক কমিটি কাজ করছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সরকারের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথাও জানান তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন ড. খলিলুর রহমান।
তার মতে, ওই আয়োজনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও সুসংহত হবে।
সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান
সীমান্তে পুশ ইন ইস্যুতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন বা এ ধরনের প্রচেষ্টাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
এ বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ জানানো এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সীমান্তে পুশ ইন রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সরকারের অবস্থান
সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সমমর্যাদার নীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।
একই সঙ্গে সীমান্তবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ বাণিজ্য সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
৬৩ দেশে বাংলাদেশের ৮৬ কূটনৈতিক মিশন
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অতীতে মিশনগুলোর কার্যক্রমে শিথিলতা থাকলেও বর্তমান সরকার দূতাবাসগুলোকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩টি রাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এফডিআই বাড়াতে অর্থনৈতিক রোডম্যাপ
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে জিডিপিতে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) অংশ ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালুর সম্ভাবনা
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে।
এ ছাড়া পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তি স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়েও আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রতিবেদকের নাম 




















