ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
এমআরটি-৫: চলমান মেট্রোরেলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ব্যয়, ঋণ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি তিতাসে দেশের সবচেয়ে গভীর গ্যাসকূপ, মিলতে পারে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তিন মাসে ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭ এক ক্লিকেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে ম্যালওয়্যার, সতর্কবার্তা গবেষকদের ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৮ দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি কবে থেকে, কত দিন? গেম নির্মাতাদের জন্য একগুচ্ছ নতুন সুবিধা আনছে রোবলক্স মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের বড় পরিকল্পনা, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খননের উদ্যোগ বিপিএল নিয়ে শান্তর আলাদা রোমাঞ্চ, ‘এটি আমাদের জন্য বড় একটি মঞ্চ’
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দাড়ি রাখা নিয়ে কলকাতা পুলিশের ৪৭ মুসলিম সদস্যের আবেদন খারিজ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৪ সময় দেখুন

 

দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। বাহিনীর ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের প্রচলিত পোশাকবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দাড়ি কামাতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সদস্যদের চেহারায় সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৪৭ সদস্যের আবেদনে মিলল না অনুমতি

গত ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। এতে বাহিনীতে প্রচলিত দাড়িসংক্রান্ত পোশাকবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় দাড়ি রাখার আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে এনসিপির মশাল মিছিল

আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি দ্রুত জানিয়ে দিতে এবং নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখা সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ

কলকাতার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে।

তাদের অনেকেই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে দাড়ি রেখেছিলেন। স্থানীয় পত্রিকা ‘পুবের কলম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন পুলিশ সদস্য হজ পালন শেষে সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে দাড়ি রেখেছিলেন।

ফলে কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পুলিশের পোশাকবিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বন্যাকবলিত নেপালের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি খেলতে চায় নেপাল

শিখদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, উঠছে প্রশ্ন

সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা পাগড়ি, বড় চুল ও দাড়ি রেখেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। তাহলে মুসলিম পুলিশ সদস্যদের ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের সুযোগ থাকবে না?

এ নিয়েই সামাজিক ও আইনগত অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।

পুলিশে দাড়ি রাখার নিয়ম কী?

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রণীত বিধিমালা বা ‘ম্যানুয়াল’-এ সাধারণভাবে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যরা দাড়ি রাখতে পারবেন না।

আরও পড়ুনঃ  গ্রেপ্তারের আগে পরোয়ানা যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

তবে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এ নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের পোশাক ও সাজসজ্জা সংক্রান্ত এসব বিধির পেছনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীতে অভিন্ন চেহারা, শৃঙ্খলা এবং বাহিনীগত সামঞ্জস্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। সেই ধারাবাহিকতায় দাড়ি রাখার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ তৈরি হয়।

পুরোনো বিধির কঠোর প্রয়োগ

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, কলকাতা পুলিশের সর্বশেষ নির্দেশিকায় মূলত দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিধিই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের পর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং পুলিশের অভিন্ন শৃঙ্খলা—এই তিনটির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা যায়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এমআরটি-৫: চলমান মেট্রোরেলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ব্যয়, ঋণ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি

দাড়ি রাখা নিয়ে কলকাতা পুলিশের ৪৭ মুসলিম সদস্যের আবেদন খারিজ

আপডেটের সময়: ০৯:৩৮:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। বাহিনীর ৪৭ জন মুসলিম সদস্যের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের প্রচলিত পোশাকবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চাকরিতে বহাল থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের দাড়ি কামাতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশের শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং সদস্যদের চেহারায় সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৪৭ সদস্যের আবেদনে মিলল না অনুমতি

গত ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। এতে বাহিনীতে প্রচলিত দাড়িসংক্রান্ত পোশাকবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার (সদর দপ্তর) স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় দাড়ি রাখার আবেদন করা ৪৭ জন মুসলিম পুলিশ সদস্যের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জুবা হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

আবেদনকারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি দ্রুত জানিয়ে দিতে এবং নির্দেশিকাটি যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখা সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ

কলকাতার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পুলিশ সদস্যদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও মনঃকষ্ট তৈরি হয়েছে।

তাদের অনেকেই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে দাড়ি রেখেছিলেন। স্থানীয় পত্রিকা ‘পুবের কলম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন পুলিশ সদস্য হজ পালন শেষে সুন্নাহ অনুসরণের উদ্দেশ্যে দাড়ি রেখেছিলেন।

ফলে কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও পুলিশের পোশাকবিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নিয়মের বাইরে এআই এজেন্টের গোপন যোগাযোগ, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

শিখদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, উঠছে প্রশ্ন

সমালোচকদের প্রশ্ন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীতে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা পাগড়ি, বড় চুল ও দাড়ি রেখেই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। তাহলে মুসলিম পুলিশ সদস্যদের ধর্মীয় কারণে দাড়ি রাখার ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের সুযোগ থাকবে না?

এ নিয়েই সামাজিক ও আইনগত অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও মুসলিম পুলিশ সদস্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য পাওয়া সহজ নাও হতে পারে।

পুলিশে দাড়ি রাখার নিয়ম কী?

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর জন্য প্রণীত বিধিমালা বা ‘ম্যানুয়াল’-এ সাধারণভাবে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া পুলিশ সদস্যরা দাড়ি রাখতে পারবেন না।

আরও পড়ুনঃ  জর্ডানের আকাবায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক, আহত ১১

তবে শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ক্ষেত্রে এ নিয়মে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশের পোশাক ও সাজসজ্জা সংক্রান্ত এসব বিধির পেছনে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসনিক ও সামরিক ব্যবস্থার প্রভাব রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীতে অভিন্ন চেহারা, শৃঙ্খলা এবং বাহিনীগত সামঞ্জস্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। সেই ধারাবাহিকতায় দাড়ি রাখার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বিধিনিষেধ তৈরি হয়।

পুরোনো বিধির কঠোর প্রয়োগ

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, কলকাতা পুলিশের সর্বশেষ নির্দেশিকায় মূলত দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিধিই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

তবে নতুন এই সিদ্ধান্তের পর ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং পুলিশের অভিন্ন শৃঙ্খলা—এই তিনটির মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা যায়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।