যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েলের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে আরও চার বছরের জন্য পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ফলকার তুর্ক। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোটের মাধ্যমে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করেন। এর মাধ্যমে ১৯৯৩ সালে পদটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো টানা দুই পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের নজির গড়লেন তিনি।
অস্ট্রিয়ার আইনজীবী ফলকার তুর্ক ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘে যোগ দেন। শুরুতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এ কাজ করেন। পরে মালয়েশিয়া, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং কঙ্গোতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জ্যেষ্ঠ পদে কর্মরত ছিলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের অধীনে স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেশন বিষয়ক সহকারী মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
মানবাধিকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কঠোর সমালোচনা করেন তুর্ক। পাশাপাশি আফগানিস্তান, সুদান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও নিকারাগুয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সরব ছিলেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রস্তাবের পক্ষে ১৪৪টি দেশ ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে ১০টি এবং ১৩টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ভোট স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও তা নাকচ হয়ে যায়। অন্যদিকে রাশিয়া তুর্কের মেয়াদ কেবল চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও সেটিও সমর্থন পায়নি।
তুর্কের পুনর্নিয়োগে সবচেয়ে বেশি আপত্তি জানায় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইসরায়েল। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ৭ অক্টোবরের হামলার যথাযথ মূল্যায়ন করেনি, তহবিলের অপব্যবহার করেছে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। রাশিয়ার উপ-রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি চুমাকভ তাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দেন। আর যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তোলে, তিনি চরমপন্থী আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন।
এদিকে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সমালোচকদের দাবি, নতুন মানবাধিকার প্রধান নির্বাচনের দায়িত্ব তার উত্তরসূরির জন্য রেখে দেওয়া উচিত ছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘটনাকে জাতিসংঘের অদক্ষতা ও দুর্বল প্রশাসনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইসরায়েল একে ‘নৈতিক ব্যর্থতা’ বলে মন্তব্য করেছে।
তবে এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক। তিনি বলেন, মহাসচিব জাতিসংঘের নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সদস্য রাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে স্বচ্ছভাবে ফলকার তুর্কের মনোনয়ন দিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















