বিশ্বের অনেক দেশেই রেলওয়ে লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আয়ের তুলনায় ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানে চলছে Bangladesh Railway।
সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, সংস্থাটি প্রতি ১০০ টাকা আয়ের বিপরীতে ব্যয় করছে প্রায় ২০৯ টাকা। ফলে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে পণ্য পরিবহন থেকে বড় অংশের আয় আসে। যেমন প্রতিবেশী ভারতে রেলের আয়ের একটি বড় অংশ আসে মালবাহী খাত থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে এই খাতের অবদান মাত্র ৫ শতাংশের মতো, যা সামগ্রিক আয়ের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে নিয়মিত কনটেইনার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা থাকলেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যাত্রী পরিবহনে অগ্রাধিকার দেওয়ায় মালবাহী সেবা পিছিয়ে পড়ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা ক্রমেই সড়কপথের দিকে ঝুঁকছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলওয়ের নীতিগত দুর্বলতা ও ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে পণ্য পরিবহন খাত গুরুত্ব পাচ্ছে না। অথচ এই খাত থেকেই আয় বাড়িয়ে যাত্রীসেবায় ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব।
অন্যদিকে, রেল কর্তৃপক্ষ কোচ ও ইঞ্জিন সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে এই সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পদ্মা রেল সংযোগসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবুও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেলের আয় ছিল প্রায় ১,৮৪৬ কোটি টাকা, যেখানে ব্যয় হয়েছে তার দ্বিগুণেরও বেশি।
নতুন পরিকল্পনায় পণ্য পরিবহনের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ইঞ্জিন সংকট ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে রেলওয়ে লাভজনক খাতে ফিরতে পারবে কিনা, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















