মস্তিষ্কের অন্যতম আক্রমণাত্মক ক্যানসার গ্লিওব্লাস্টোমার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে ভিটামিন বি৩ বা নিয়াসিন নিয়ে করা এক প্রাথমিক গবেষণায়। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রচলিত কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সঙ্গে উচ্চমাত্রার নিয়াসিন যুক্ত করলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসারের অগ্রগতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।
ছোট পরিসরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রথম ২৪ রোগীর মধ্যে ছয় মাস পর ৮২ শতাংশের ক্যানসার নতুন করে বাড়েনি। গবেষকদের হিসাবে, আগের গবেষণার তুলনায় এ হার ২৮ শতাংশ বেশি। তবে গবেষকেরা বলছেন, ফলাফল এখনো প্রাথমিক এবং চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে বড় পরিসরে গবেষণা ও নিরাপত্তা যাচাই প্রয়োজন।
কেন ভিটামিন বি৩ নিয়ে গবেষণা
গ্লিওব্লাস্টোমা শুধু মস্তিষ্কে টিউমার তৈরি করে না, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমও দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতিরোধী কোষগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না।
গবেষকদের ধারণা, উচ্চমাত্রার নিয়াসিন এসব দুর্বল হয়ে পড়া রোগপ্রতিরোধী কোষকে সক্রিয় করতে সহায়তা করতে পারে। এর আগে ইঁদুরের ওপর করা পরীক্ষায় নিয়াসিন ব্যবহারে প্রাণীদের বেঁচে থাকার সময় বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেই ফলের ভিত্তিতে মানুষের ওপর ফেজ-১ ও ফেজ-২ পর্যায়ের সম্মিলিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে।
প্রথম ২৪ রোগীতে আশাব্যঞ্জক ফল
গবেষণায় প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় নিয়াসিন দেওয়া হচ্ছে। এর একটি উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ করা এবং নিয়াসিন ব্যবহারে ক্যানসারের অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখার সময় বাড়ে কি না, তা পরীক্ষা করা।
গবেষণা শুরুর আগে বিজ্ঞানীরা নির্ধারণ করেছিলেন, ছয় মাসে ক্যানসারের অগ্রগতি ঠেকিয়ে রাখার হার আগের গবেষণার তুলনায় অন্তত ২০ শতাংশ উন্নত না হলে ট্রায়াল বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে প্রথম ২৪ রোগীর ফল সেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫৫ বছর বয়সী এডওয়ার্ড ওয়াল্ডনারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসাটি আশার সুযোগ তৈরি করেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেন। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তার ক্যানসারের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলে জানিয়েছেন।
উচ্চমাত্রার নিয়াসিন নিজে থেকে নয়
গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, ভিটামিন বি৩ পরিচিত ও সহজলভ্য হলেও উচ্চমাত্রায় এটি ঝুঁকিমুক্ত নয়। অতিরিক্ত নিয়াসিন গ্রহণে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট মাত্রায় নিয়াসিন দেওয়া হচ্ছে। গবেষণার ফল দেখে সাধারণ মানুষকে নিজে থেকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বি৩ গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় মোট ৪৮ জন রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে গবেষণার চূড়ান্ত বিশ্লেষণ করা হতে পারে। বড় পরিসরের ফলাফল পাওয়ার পরই চিকিৎসাটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


























