ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৪২ জন। সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল; এ মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪০৩ জন।
ঢামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও জুলাই থেকে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। জানুয়ারিতে ৪৫, ফেব্রুয়ারিতে ২৬, মার্চে ৩০, এপ্রিলে ৪১, মে মাসে ৭৫ এবং জুনে ১২২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন।
জুলাইয়ে ভর্তি হন ৩৭২ জন, আগস্টে ৮৪৪ জন এবং সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৪০৩ জন। অক্টোবরের প্রথম তিন দিনেই আরও ১২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সেপ্টেম্বরে মৃত্যু সর্বোচ্চ
চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সেপ্টেম্বরে। এ মাসে মারা গেছেন ১৩ জন। জুলাই ও আগস্টে ১০ জন করে, জানুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ২ জন, মে মাসে ২ জন, জুনে ১ জন এবং অক্টোবরের প্রথম তিন দিনে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
তুলনায় ২০২৫ সালে ঢামেকে ডেঙ্গুতে ১১৮ জন এবং ২০২৪ সালে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ গত দুই বছরে হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২১৩ জন।
বর্তমানে ভর্তি ২৯৮ রোগী
৩ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, ঢামেকে বর্তমানে ২৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪১ জন পুরুষ, ৮৯ জন নারী ও ৬৮ জন শিশু।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১২৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৬৬ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ৩১ জন নিজ দায়িত্বে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এ সময়ে ৪০২ ও ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে দুজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালের নতুন ভবনের ৪০২, ৫০২ ও ৭০২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীদের মশারি সরবরাহ করা হলেও অনেকেই তা ব্যবহার করছেন না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।
২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বেশি আক্রান্ত
বয়সভিত্তিক হিসাবে চলতি বছর ঢামেকে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী। এ বয়সসীমায় ভর্তি হয়েছেন ৮৬২ জন। এরপর ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ৬২২ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৫৬৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া ১০ বছর পর্যন্ত ৩৭৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৩২৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ২০৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৯৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ২৭ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৪২ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি—৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ৬ জন এবং ১০ বছর পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিন বছরে ভর্তি ১০ হাজারের বেশি
ঢামেকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ৪০৯ জন, ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৮৮৮ জন এবং চলতি বছরের ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
অর্থাৎ, গত তিন বছরে এ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি রোগী। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই ভর্তি রোগীর সংখ্যা আগের কয়েক মাসের মোট সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।
হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীর পাশাপাশি স্বজনদের উপস্থিতিও বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের মশারি সরবরাহ করলেও গরম ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের অসুবিধার কারণে অনেকে তা ব্যবহার করছেন না বলে রোগীরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে রোগী ও তাদের স্বজনরা মশারি ব্যবহার না করায় তাদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 





















