জুলাই আন্দোলনের সময় এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালার আরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
এর আগে গত ২১ অক্টোবর একই মামলায় দিলীপ আগারওয়ালাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেই রিমান্ড শেষে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে তাঁকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আগেও একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁকে আরও কয়েকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবীরা। বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এর প্রায় এক বছর পর গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় বনানী এলাকা থেকে মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিনে দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার।
তিনি ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন তিনি।
মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলার এজাহারে দিলীপ কুমার আগারওয়ালার নাম ৩১ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছে।
মামলাটির তদন্ত চলছে। আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিলীপ আগারওয়ালাকে আরও দুই দিন রিমান্ডে রাখা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 






















