কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা বাড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ বিবেচনা করছে। তার দাবি, অন্টারিওর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যতে তেমন ব্যবসা-বাণিজ্য থাকবে না—এমন ধারণা থেকেই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি।
শুল্ক বিরোধে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক
ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে শুল্ক নিয়ে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার বিয়ার, চিজ ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
এর জবাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়াতে তার প্রদেশের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফোর্ড বলেন, ‘সব ধরনের পদক্ষেপ’ বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অন্টারিও থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।
তিনি জানান, অন্টারিও প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ফরাসি ভাষানীতি নিয়েও বিরোধ
বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ নিয়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভাষা-সংক্রান্ত বিরোধও সামনে এসেছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির অভিযোগ, কানাডার ফরাসি ভাষানীতি পরিবর্তন এবং কেবেকে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ছিল আলোচনার অচলাবস্থার অন্যতম কারণ।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কানাডীয়রা ফরাসি ভাষায় কথা বললে তাতে তার কোনো আপত্তি নেই এবং এ বিষয়ে তিনি কখনো হস্তক্ষেপ করবেন না।
কার্নি কেবেকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। একই পোস্টে ফরাসিভাষী কানাডীয়দের প্রতি নিজের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফরাসি কানাডীয়দের ভালোবাসি।’
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শুল্ক ও ভাষানীতি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের হুমকি নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদকের নাম 



















