দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশিসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন নারী। এসব দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নর্দার্ন কেপ প্রদেশের স্প্রিংবকে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি প্রবাসী মো. রুবেল (৩৯) নিহত হন। একই দিন পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিনের কাছে একটি মিনিবাস ট্যাক্সি ও ট্রাকের সংঘর্ষে ছয় নারী প্রাণ হারান।
মালামাল কিনে ফেরার পথে বাংলাদেশির মৃত্যু
স্থানীয় প্রবাসী মেহেদি হাসানের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পর দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন রুবেল। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা আরেক বাংলাদেশি আহত হন। তবে তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। জীবিকার সন্ধানে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান তিনি। সেখানে ফুফাতো ভাই আমির হোসেনের দোকানে কাজ করতেন।
প্রবাসী নাসির উদ্দিন জানান, দোকানের মালিক দেশে চলে যাওয়ায় রুবেল নতুন করে গাড়ি চালানো শিখেছিলেন। শনিবার দোকানের জন্য মালামাল কিনে ফেরার সময় হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
রুবেলের দেশে স্ত্রী, দুই সন্তান, বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাই রয়েছেন। ফুফাতো ভাই আমির হোসেন ছুটি শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে এলে তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর পূরণ হলো না।
মিনিবাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ছয় নারী
এদিকে, শনিবার সকালে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিন শহরের বাইরে আর-৬১ সড়কে মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ইএনসিএ ও এসএবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিনিবাস ট্যাক্সিটি পশ্চিম কেপের বিউফোর্ট ওয়েস্ট থেকে পূর্ব কেপের দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটিতে ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আরও দুটি গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি কিয়া রিও গাড়ির এক আরোহী আহত হন।
পূর্ব কেপ প্রদেশের পরিবহণ বিভাগের মুখপাত্র উনাথি বিনকোসে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালকের ক্লান্তি সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হতে পারে।
এ ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 





















