ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুয়েতে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান, সামরিক স্থাপনা এড়ানোর নির্দেশ দেশ ছাড়ার পরও পিছু ছাড়েনি সাইবার হয়রানি, মুখ খুললেন মান্দানা করিমি নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন ৬ সেপ্টেম্বর, কার্যকর হবে যেদিন থেকে ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য চাবে দুদক কক্সবাজারে দীঘির নতুন লুক, ছবি প্রকাশের পর ভক্তদের প্রশংসা ঢাকা-মস্কো সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ, রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মৈত্রী গ্রুপের বৈঠক সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালচক্র নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর বাড়িতে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, স্ত্রী-কন্যাসহ নিহত ৪ এক্সেল ভেঙে নিয়ন্ত্রণ হারাল বাস, কালীগঞ্জে আহত ২০
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য চাবে দুদক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে তথ্য চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নাম রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএসি) অনুযায়ী ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি বিনিময় করা হয়।

দুবাইয়ের অভিজাত এলাকায় সম্পদের অভিযোগ

তদন্তাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন। এসব সম্পদের মাধ্যমে কয়েকজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  পাঁচ মাসের চিকিৎসা শেষে আজ দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম জানান, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্ত দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।

বিশেষ দলের নেতৃত্বে তদন্ত

দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল বিষয়টি তদন্ত করছে।

আরও পড়ুনঃ  মেধাবীদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ: শিক্ষামন্ত্রী

তদন্তের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন, এনবিআর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নথি সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে। পরে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৭৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়।

তদন্ত চলমান থাকায় এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।

শুরু যেভাবে

২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশনার পর দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। ওই নির্দেশনায় দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ থাকার অভিযোগ তদন্ত করতে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়, মেসির সামনে এখন যে চ্যালেঞ্জগুলো

মেরিনা-পাম জুমেইরাহতে শত শত সম্পত্তি

ওই গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনা এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহ এলাকায় অবস্থিত। এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা এবং পাঁচটি ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, চার বা পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের বর্তমান তদন্তের মাধ্যমে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কুয়েতে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান, সামরিক স্থাপনা এড়ানোর নির্দেশ

দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য চাবে দুদক

আপডেটের সময়: ০৬:৩০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকারের কাছে তথ্য চাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের নাম রয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএসি) অনুযায়ী ইউএই সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি বিনিময় করা হয়।

দুবাইয়ের অভিজাত এলাকায় সম্পদের অভিযোগ

তদন্তাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন। এসব সম্পদের মাধ্যমে কয়েকজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়, মেসির সামনে এখন যে চ্যালেঞ্জগুলো

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আক্তারুল ইসলাম জানান, দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তদন্ত দল সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি দিয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।

বিশেষ দলের নেতৃত্বে তদন্ত

দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল বিষয়টি তদন্ত করছে।

আরও পড়ুনঃ  হরমুজ খুললেই বাংলাদেশি জাহাজকে অগ্রাধিকার দিতে ইরানকে ঢাকার অনুরোধ

তদন্তের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন, এনবিআর, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নথি সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে। পরে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৭৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়।

তদন্ত চলমান থাকায় এসব ব্যক্তির পেশাগত পরিচয় প্রকাশ করেনি দুদক।

শুরু যেভাবে

২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি নির্দেশনার পর দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। ওই নির্দেশনায় দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ থাকার অভিযোগ তদন্ত করতে দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষিণ আফ্রিকায় রেকর্ডগড়া ট্রিপল সেঞ্চুরি হৃদয়ের

মেরিনা-পাম জুমেইরাহতে শত শত সম্পত্তি

ওই গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনা এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহ এলাকায় অবস্থিত। এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা এবং পাঁচটি ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, চার বা পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের বর্তমান তদন্তের মাধ্যমে এসব সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হবে।