ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ দিল্লিতে তথ্য উপদেষ্টার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লি বিমানবন্দরে ঘটনার তদন্ত করবে সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী পায়ের রগ কেটে ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ, সাবেক স্ত্রী আটক পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ চোটে মাঠের বাইরে, তবু আলোচনার কেন্দ্রে নেইমার দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান বিজিবির ঢাকার যানজট কমাতে বড় সিদ্ধান্ত, সরছে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল সরকারি বই পাচারের অভিযোগ, পিকআপ জব্দ; পলাতক মাদ্রাসা সুপার ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, প্রভাব মূল্যায়ন করবে সরকার
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com
 বিলের রহস্যময় ‘কটকটি’ মাছ

 দেখতে ব্যাঙাচির মতো, স্বাদে অতুলনীয়—তবু বিলুপ্তির পথে বাংলার এক জলজ ঐতিহ্য

 


গ্রামীণ বাংলার বিল, ডোবা ও খাল একসময় ছিল দেশি মাছের স্বর্গরাজ্য। বর্ষা শেষে সেসব জলাশয় সেচে মাছ ধরার উৎসব গ্রামজীবনের আনন্দের অংশ ছিল। সেই সময় জালে ধরা পড়ত কই, শিং, মাগুর, শোলের মতো পরিচিত মাছের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আকৃতির মাছ—‘কটকটি’।

কোথাও একে বলা হতো চ্যাগা, কোথাও কুতকুতে, আবার কোথাও ব্যাঙ মাছ। দেখতে ব্যাঙাচির মতো এই মাছ আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশের অনেক অঞ্চল থেকে।


ব্যাঙাচির মতো অদ্ভুত গড়ন

কটকটি মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Chaca chaca। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘Squarehead Catfish’ নামে পরিচিত। মাথা চওড়া ও চ্যাপ্টা, শরীর সামনে মোটা আর পেছনের দিকে সরু—দেখতে প্রায় ব্যাঙাচির মতোই।

আরও পড়ুনঃ  নূরজাহান বেগমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও মন্তব্য

কাদামাটির রঙের কারণে এটি সহজেই পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, ফলে শত্রুর চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে থাকা সহজ হয়।


নামের পেছনের গল্প

গ্রামের মানুষের মতে, মাছটি ধরলে নড়াচড়ার সময় ‘কটকট’ ধরনের শব্দ করত। সেই শব্দ থেকেই নাম হয়েছে ‘কটকটি’। বিজ্ঞানীরাও জানান, এই প্রজাতির ক্যাটফিশ শব্দ তৈরি করতে সক্ষম—যা একটি বিরল বৈশিষ্ট্য।

আরও পড়ুনঃ  প্যারাগুয়ের জালে এক হালি গোল দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

ধৈর্যশীল শিকারি

এই মাছ সাধারণত কাদামাটির তলদেশে লুকিয়ে থাকে এবং ছোট মাছ বা জলজ প্রাণী হঠাৎ আক্রমণ করে শিকার করে। বাস্তুতন্ত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


দেখতে অদ্ভুত, স্বাদে অসাধারণ

দেখতে ভয়ংকর হলেও কটকটি মাছের মাংস নরম ও সুস্বাদু। ছোট কাঁটার ঝামেলা প্রায় নেই বললেই চলে। গ্রামীণ রান্নায় আলু, বেগুন ও মশলা দিয়ে এর ঝোল ছিল বেশ জনপ্রিয়।


বিপন্ন অবস্থায় কটকটি

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য তালিকায় Chaca chaca এখন ‘Endangered’ বা বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। অনেক এলাকায় বহু বছর ধরে এই মাছ আর দেখা যায় না।

আরও পড়ুনঃ  পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

কেন হারিয়ে যাচ্ছে?

জলাভূমি ভরাট, কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহার, জলাশয় শুকিয়ে ফেলা এবং বাণিজ্যিক মাছ চাষের প্রসার—সব মিলিয়ে এই দেশি প্রজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।


হারিয়ে যাচ্ছে একটি ঐতিহ্যও

কটকটি মাছ শুধু একটি প্রজাতি নয়, এটি গ্রামীণ স্মৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। এর বিলুপ্তি মানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই দেশীয় জলজ প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কটকটির মতো আরও বহু প্রজাতি শুধু ইতিহাসে থেকে যাবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ

 বিলের রহস্যময় ‘কটকটি’ মাছ

 দেখতে ব্যাঙাচির মতো, স্বাদে অতুলনীয়—তবু বিলুপ্তির পথে বাংলার এক জলজ ঐতিহ্য

আপডেটের সময়: ০৭:৪১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

 


গ্রামীণ বাংলার বিল, ডোবা ও খাল একসময় ছিল দেশি মাছের স্বর্গরাজ্য। বর্ষা শেষে সেসব জলাশয় সেচে মাছ ধরার উৎসব গ্রামজীবনের আনন্দের অংশ ছিল। সেই সময় জালে ধরা পড়ত কই, শিং, মাগুর, শোলের মতো পরিচিত মাছের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আকৃতির মাছ—‘কটকটি’।

কোথাও একে বলা হতো চ্যাগা, কোথাও কুতকুতে, আবার কোথাও ব্যাঙ মাছ। দেখতে ব্যাঙাচির মতো এই মাছ আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে দেশের অনেক অঞ্চল থেকে।


ব্যাঙাচির মতো অদ্ভুত গড়ন

কটকটি মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Chaca chaca। আন্তর্জাতিকভাবে এটি ‘Squarehead Catfish’ নামে পরিচিত। মাথা চওড়া ও চ্যাপ্টা, শরীর সামনে মোটা আর পেছনের দিকে সরু—দেখতে প্রায় ব্যাঙাচির মতোই।

আরও পড়ুনঃ  হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৪ হাজারের বেশি হাজি, চলবে ফিরতি ফ্লাইট

কাদামাটির রঙের কারণে এটি সহজেই পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, ফলে শত্রুর চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে থাকা সহজ হয়।


নামের পেছনের গল্প

গ্রামের মানুষের মতে, মাছটি ধরলে নড়াচড়ার সময় ‘কটকট’ ধরনের শব্দ করত। সেই শব্দ থেকেই নাম হয়েছে ‘কটকটি’। বিজ্ঞানীরাও জানান, এই প্রজাতির ক্যাটফিশ শব্দ তৈরি করতে সক্ষম—যা একটি বিরল বৈশিষ্ট্য।

আরও পড়ুনঃ  নূরজাহান বেগমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও মন্তব্য

ধৈর্যশীল শিকারি

এই মাছ সাধারণত কাদামাটির তলদেশে লুকিয়ে থাকে এবং ছোট মাছ বা জলজ প্রাণী হঠাৎ আক্রমণ করে শিকার করে। বাস্তুতন্ত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


দেখতে অদ্ভুত, স্বাদে অসাধারণ

দেখতে ভয়ংকর হলেও কটকটি মাছের মাংস নরম ও সুস্বাদু। ছোট কাঁটার ঝামেলা প্রায় নেই বললেই চলে। গ্রামীণ রান্নায় আলু, বেগুন ও মশলা দিয়ে এর ঝোল ছিল বেশ জনপ্রিয়।


বিপন্ন অবস্থায় কটকটি

বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য তালিকায় Chaca chaca এখন ‘Endangered’ বা বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। অনেক এলাকায় বহু বছর ধরে এই মাছ আর দেখা যায় না।

আরও পড়ুনঃ  গণমাধ্যমকে চাটুকারিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

কেন হারিয়ে যাচ্ছে?

জলাভূমি ভরাট, কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহার, জলাশয় শুকিয়ে ফেলা এবং বাণিজ্যিক মাছ চাষের প্রসার—সব মিলিয়ে এই দেশি প্রজাতির অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।


হারিয়ে যাচ্ছে একটি ঐতিহ্যও

কটকটি মাছ শুধু একটি প্রজাতি নয়, এটি গ্রামীণ স্মৃতি ও খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। এর বিলুপ্তি মানে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই দেশীয় জলজ প্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কটকটির মতো আরও বহু প্রজাতি শুধু ইতিহাসে থেকে যাবে।