ওয়াশিংটনের বিখ্যাত শিল্পকলা প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টারের ভবনে নিজের নাম যুক্ত করার অনুমতি না পেলে প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক বিচারক কেনেডি সেন্টারের ভবনের সামনে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করা যাবে না বলে রায় দেওয়ার পরই এমন প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
সংস্কারের নামে কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত
ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার মনোনীত বোর্ডের প্রায় সব সদস্যই কেন্দ্রটি জরুরি সংস্কারের জন্য অবিলম্বে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিচারকের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোর্ড এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আদালতের রায় যদি তার পক্ষে না যায় এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেটি বাতিল না করে, তাহলে কেনেডি সেন্টারের পুনর্গঠন ও সংস্কারের কাজ করা হবে না।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, নাম সংক্রান্ত আইনি সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের বিষয়টিও যুক্ত হয়ে গেছে।
বিচারকের আদেশ
এর আগে মার্কিন ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারের ভবনের বাইরে থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও বাতিল করেন তিনি।
মঙ্গলবারের রায়ে কুপার বলেন, তার আগের আদেশ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের বোর্ড ভবনটিতে ট্রাম্প বা অন্য কোনো ব্যক্তির নামে স্মারক স্থাপন করতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেনেডি সেন্টারের বক্তব্য
এদিকে, কেনেডি সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জরুরি সংস্কারের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্তে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এটি একটি যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত।
জন এফ. কেনেডির নামে প্রতিষ্ঠান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর ট্রাম্প নিজেকে কেনেডি সেন্টারের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেন। এর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নাম ও পরিচালনা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনের এই সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়েছিল প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির নামে। ডেমোক্র্যাট দলের নেতা কেনেডি নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
প্রতিবেদকের নাম 



















