রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি গভীর দায়িত্ব ও মানবিক অঙ্গীকারের বিষয়। শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বিকাশ, চরিত্র গঠন এবং ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুতিন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হওয়ার জন্য শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না। প্রয়োজন প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং শিশু-কিশোরদের প্রতি আন্তরিক যত্ন। একই সঙ্গে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ভেতরের প্রতিভা ও ইতিবাচক গুণগুলো চিহ্নিত করে তা বিকশিত করার সক্ষমতাও একজন শিক্ষকের থাকতে হয়।
পুতিনের ভাষ্য, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিজ্ঞতা ও সংবেদনশীল আচরণ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে সহায়তা করে। শিক্ষকদের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পরবর্তী প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী—তরুণ প্রজন্ম যেখানেই থাকুক, তাদের একটি বৃহৎ ও ঐক্যবদ্ধ দেশের অংশ হিসেবে নিজেদের অনুভব করা জরুরি। শৈশব থেকেই তাদের রাশিয়ার বহুজাতিক সমাজের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে রাখা মূল্যবোধগুলোর গুরুত্বও তাদের বোঝানো প্রয়োজন।
চলতি বছর রাশিয়ায় জনগণের ঐক্যের বছর হিসেবে ঘোষিত হওয়ায় শিক্ষকদের এই দায়িত্ব আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন পুতিন। তার মতে, অভিন্ন মূল্যবোধ, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিই রাশিয়াকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
দেশের বিভিন্ন অর্জন ও সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের অবদান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রজন্মের ঐতিহ্য এবং বর্তমান সময়ের অর্জন নিয়ে গর্ব করার সুযোগ তৈরিতে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পুতিন জানান, চলতি বছর থেকে শিক্ষকদের বিশেষ মর্যাদা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষকতা পেশার প্রতি সমাজের উচ্চ সম্মানের প্রতিফলন ঘটেছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা যাচাই ও উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এসব আয়োজনের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষকদের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি উদ্ভাবনী ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থার অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আরামদায়ক ও কার্যকর করে তোলা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ করে আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে সেগুলোর সমন্বয় করা হবে।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যতই বাড়ুক, শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের গুরুত্ব কখনো কমবে না বলে জোর দেন পুতিন। তিনি বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে যুক্ত হলেও শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিবর্তিত থাকবে।
শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও প্রতিদিনের পরিশ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পুতিন বলেন, শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের চিন্তা করতে শেখান, চরিত্র গঠনে সহায়তা করেন এবং ভালো কাজের জন্য অনুপ্রেরণা জোগান।
প্রতিবেদকের নাম 
























