হুথিদের সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযান মোকাবিলায় সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের কাছে চারটি কার্গো উড়োজাহাজভর্তি অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের পাঠানো সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা। এসব অস্ত্র ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অস্থায়ী রাজধানী এডেনে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, সৌদি আরবের মিত্র হিসেবে ইয়েমেন যুদ্ধে ইসলামাবাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ছে—অস্ত্র সরবরাহকে তারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারা সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি
পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের কয়েকজন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, হুথিদের মোকাবিলায় উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা বর্তমানে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিয়ন্ত্রণ করছে। এ অবস্থায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনী হুথিদের কাছ থেকে উপকূলীয় এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের চেষ্টা করছে।
গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে পবিত্র নগরী মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ করেছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, একটি ড্রোন তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। তবে হুথিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নজরে পাকিস্তান-সৌদি সামরিক সহযোগিতা
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে কয়েক দশকের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতটা সামরিক সহায়তা দেয়, তা এখন বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এর কারণ, গত আগস্টে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সহায়তা এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রথম বড় পরীক্ষা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 





















