২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এদিনই নেওয়া হয় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, যা পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
সারা দেশে সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৯৮ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে এবং মোবাইল ইন্টারনেটসহ ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দেয়।
এর আগের দিন, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ৪ আগস্ট রাতেই আন্দোলনের সমন্বয়করা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট পালনের ঘোষণা দেন। সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে পরদিনই ঢাকামুখী হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ আগস্টের কর্মসূচি ঘিরে সরকার রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদেরও ঢাকায় সমবেত করার প্রস্তুতি ছিল। প্রশাসনের ভেতর থেকে সেই তথ্য আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছালে কৌশলগতভাবে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সরকারের পূর্বপ্রস্তুতির বড় অংশ কার্যকর করার সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।
৪ আগস্ট রাতে আন্দোলনের নেতৃত্বে বিভক্তির গুঞ্জন ছড়ালেও তা প্রত্যাখ্যান করেন সমন্বয়ক সারজিস আলম। তার অভিযোগ, আন্দোলনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারপন্থী কিছু মহল এ ধরনের তথ্য ছড়িয়েছিল।
একই দিনে সেনাবাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারও বাংলাদেশে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।
পরদিন ৫ আগস্ট লাখো মানুষ ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই দিন শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন এবং পরে সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়।
৩৬ দিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট সরকার পতনের মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। তবে এই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং হাজারো মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব রেখে যায়।
প্রতিবেদকের নাম 




















