ঢাকা ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা নয়, তসলিমার মন্তব্যের জবাব দিলেন অভিজিত ৪ আগস্ট: ইতিহাসের পাতায় আজকের উল্লেখযোগ্য ঘটনা হামজা-শমিতদের পর বাংলাদেশ পাচ্ছে আরেক প্রবাসী ফুটবলার রুশ সমুদ্রসৈকতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, শিশুসহ নিহত ৭ ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকা ও মার্কেট বন্ধ থাকবে ইনফান্তিনোর পাশে নেই সার্বিয়া-সুইডেন, ফিফা সভাপতির নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে চাপ ২ কারণে ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্রাজিলিয়ানরা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাস এখন রিয়াদে, ঢাকার অবস্থান ৩০তম জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধনের রূপরেখা ঠিক করতে আজ বসছে বিশেষ কমিটি
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ফিরে দেখা ৪ আগস্ট ২০২৪: ‘মার্চ টু ঢাকা’ একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কেন ছিল ঐতিহাসিক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:২৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ সময় দেখুন

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এদিনই নেওয়া হয় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, যা পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

সারা দেশে সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৯৮ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে এবং মোবাইল ইন্টারনেটসহ ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ  আগস্টজুড়ে নাশকতার শঙ্কা, দেশব্যাপী সতর্ক থাকার নির্দেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এর আগের দিন, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ৪ আগস্ট রাতেই আন্দোলনের সমন্বয়করা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট পালনের ঘোষণা দেন। সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে পরদিনই ঢাকামুখী হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ আগস্টের কর্মসূচি ঘিরে সরকার রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদেরও ঢাকায় সমবেত করার প্রস্তুতি ছিল। প্রশাসনের ভেতর থেকে সেই তথ্য আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছালে কৌশলগতভাবে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সরকারের পূর্বপ্রস্তুতির বড় অংশ কার্যকর করার সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ভারত, চীন ইস্যুতে উদ্বেগের কথা সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে

৪ আগস্ট রাতে আন্দোলনের নেতৃত্বে বিভক্তির গুঞ্জন ছড়ালেও তা প্রত্যাখ্যান করেন সমন্বয়ক সারজিস আলম। তার অভিযোগ, আন্দোলনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারপন্থী কিছু মহল এ ধরনের তথ্য ছড়িয়েছিল।

একই দিনে সেনাবাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারও বাংলাদেশে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আহ্বান সৌদি যুবরাজের

পরদিন ৫ আগস্ট লাখো মানুষ ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই দিন শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন এবং পরে সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়।

৩৬ দিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট সরকার পতনের মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। তবে এই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং হাজারো মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব রেখে যায়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা নয়, তসলিমার মন্তব্যের জবাব দিলেন অভিজিত

ফিরে দেখা ৪ আগস্ট ২০২৪: ‘মার্চ টু ঢাকা’ একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কেন ছিল ঐতিহাসিক

আপডেটের সময়: ০৮:২৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছিল জুলাই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এদিনই নেওয়া হয় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, যা পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

সারা দেশে সেদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, গুলি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৯৮ জন নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে এবং মোবাইল ইন্টারনেটসহ ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ  মানিকগঞ্জে ১১ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা আটক

এর আগের দিন, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ৪ আগস্ট রাতেই আন্দোলনের সমন্বয়করা নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট পালনের ঘোষণা দেন। সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে পরদিনই ঢাকামুখী হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ আগস্টের কর্মসূচি ঘিরে সরকার রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদেরও ঢাকায় সমবেত করার প্রস্তুতি ছিল। প্রশাসনের ভেতর থেকে সেই তথ্য আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছালে কৌশলগতভাবে কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সরকারের পূর্বপ্রস্তুতির বড় অংশ কার্যকর করার সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি সাংবাদিক নেতাদের

৪ আগস্ট রাতে আন্দোলনের নেতৃত্বে বিভক্তির গুঞ্জন ছড়ালেও তা প্রত্যাখ্যান করেন সমন্বয়ক সারজিস আলম। তার অভিযোগ, আন্দোলনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারপন্থী কিছু মহল এ ধরনের তথ্য ছড়িয়েছিল।

একই দিনে সেনাবাহিনীর সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা সামরিক বাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি না দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারও বাংলাদেশে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী ভারত, চীন ইস্যুতে উদ্বেগের কথা সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে

পরদিন ৫ আগস্ট লাখো মানুষ ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। একই দিন শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন এবং পরে সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়।

৩৬ দিনের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট সরকার পতনের মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। তবে এই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং হাজারো মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব রেখে যায়।