
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের দুর্দান্ত যাত্রার পেছনে শুধু লামিন ইয়ামাল, রদ্রি বা মিকেল ওইয়ারসাবালের পারফরম্যান্সই নয়, সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। নেপথ্যের এই কারিগরের পরিকল্পনা, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং কৌশলগত পরিবর্তনের ফলেই ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেন নিজেদের খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছে। ইউরোতে দ্রুতগতির উইং-নির্ভর আক্রমণে সফল হলেও এবার ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ইয়ামালের ছন্দ পুরোপুরি ফিরে না আসায় ফুয়েন্তে দলকে বল দখলভিত্তিক, ধৈর্যশীল ফুটবলে অভ্যস্ত করেন। একই সঙ্গে বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই রক্ষণে সংগঠিত হয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়ার কৌশলও দারুণভাবে কাজে লেগেছে।
কোচের পরিকল্পনায় রদ্রি আবারও নিজের সেরা ছন্দে ফিরেছেন। দানি অলমোকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া এবং মিকেল মেরিনোর কার্যকর ব্যবহারও স্পেনকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করেছে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই এই পরিবর্তনের সুফল পেয়েছে দলটি।
সেমিফাইনালে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্পেন। ম্যাচটির মাধ্যমে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নজির গড়েছে স্প্যানিশরা। এই সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং প্রতিনিয়ত নিজেদের উন্নত করার মানসিকতাকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্প্যানিশ কোচ।
ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সুসম্পর্ক থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন ফুয়েন্তে। তার ভাষ্য, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা হোক কিংবা ইংল্যান্ড—যে দলই আসুক, তাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত ছিল স্পেন।
এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর নিউ জার্সির ফাইনালের দিকে। ফুয়েন্তের পরিকল্পনা ও স্পেনের দুর্দান্ত দলগত পারফরম্যান্স ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি দেশে ফিরিয়ে আনতে পারে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
প্রতিবেদকের নাম 










