বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক হওয়ার পর পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ছুটিতে থাকা অবস্থায় অভিযানে আটক হওয়া এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহর নির্দেশক্রমে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এএসআই দেলোয়ার হোসেন।
আটকের সময় দেলোয়ার হোসেন নিজেকে বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার এএসআই হিসেবে পরিচয় দেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক বিষয়টি এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান। দেলোয়ার হোসেনের কাছে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া না যাওয়ায় পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো থানা পুলিশের সদস্যদের কাছে তাঁকে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযানে আটক অন্য তিনজন হলেন বাগেরহাটের ফকিরহাটের নোয়াপাড়া এলাকার নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর পাঁচগাঁও এলাকার মিরাজুল ইসলাম (৩৪) এবং নগরীর পলাশপুর এলাকার ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ দিনের আরআরএল ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেছিলেন। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তাঁর আটকের খবর পাওয়ার পরপরই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। পুলিশের কোনো সদস্য মাদকসংক্রান্ত অপরাধ বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারের অভিযানে আটক চারজনের মধ্যে এএসআই দেলোয়ার হোসেনের কাছে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ আটকের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 























