বর্ষাকালে আবহাওয়া তুলনামূলক শীতল থাকায় অনেকেই মনে করেন এ সময়ে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কম। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সঠিক নয়। তৃষ্ণা কম পেলেও ঘাম, ডায়রিয়া, বমি কিংবা ভাইরাল সংক্রমণের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যেতে পারে। ফলে বর্ষাতেও ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। তখন শরীর মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। এর ফলে প্রি-রেনাল অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি, কিডনিতে পাথর এবং মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ
ডিহাইড্রেশন হলে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে—
- মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া
- গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব
- মাথা ঘোরা
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- মাথাব্যথা
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
শিশুদের ক্ষেত্রে চোখ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখে পানি না আসা এবং অতিরিক্ত ঘুমভাবও ডিহাইড্রেশনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
যাদের ঝুঁকি বেশি
চিকিৎসকদের মতে, নিচের ব্যক্তিদের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি—
- শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি
- ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগী
- বাইরে কাজ করেন এমন শ্রমজীবী মানুষ
- খেলোয়াড়
- জ্বর, ডায়রিয়া বা বমিতে আক্রান্ত ব্যক্তি
যেভাবে সতর্ক থাকবেন
ডিহাইড্রেশন এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
- ডাবের পানি, ঘোল বা অল্প লবণ মেশানো লেবুর পানি পান করতে পারেন।
- শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
- প্রস্রাবের রং নিয়মিত লক্ষ্য করুন। হালকা হলুদ থাকলে শরীরে পানির পরিমাণ সাধারণত স্বাভাবিক থাকে।
- বর্ষাকাল বলে পানি পান কমিয়ে দেবেন না; নিয়মিত তরল গ্রহণের অভ্যাস বজায় রাখুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু যাই হোক না কেন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখাই কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
প্রতিবেদকের নাম 




















