জাতীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বস্ত্রশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে রাষ্ট্রপতি বিষয়টি সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও দেশের অর্থনীতি প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তবে বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে পুনর্গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ী নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এ ধরনের সংকটে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। এর মধ্যে জ্বালানি সংকট বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, অতীতে দেশের নিজস্ব গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান, আহরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দেশের অর্থনীতিতে বস্ত্রশিল্পের অবদান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বস্ত্র খাতের বিকাশ ও উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বস্ত্রশিল্পের বর্তমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
দেশীয় বস্ত্রকল সুরক্ষার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদলের নেতারা ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিদ্ধান্ত বহাল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















