দেশের বিমা খাতে ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কৃষি ও স্বাস্থ্য বিমার সম্প্রসারণ, নতুন বিমা পণ্য চালু, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
‘বিমা খাতের চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ইন্স্যুরেন্স রিপোর্টার্স ফোরাম (আইআরএফ)।
ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও কৃষি বিমার প্রসার এখনও সীমিত। বিমা কোম্পানিগুলো কৃষি বিমাকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা না করলে কৃষকদের ঝুঁকি সুরক্ষিত করা কঠিন হবে। দেশের বাস্তবতায় কৃষি বিমাকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় বিমা সেবার আওতা অত্যন্ত কম। খাতটিকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে। কৃষি বিমার পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিমাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন বিমা পণ্য চালুর মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণ জরুরি।
প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বিমা কোম্পানিগুলোর অপচয়ও বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রাহকের অধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ সড়কপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও কার্যকর বিমা সুরক্ষার আওতায় আসছেন না। এ ক্ষেত্রেও বিমার পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
বিমা খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, জনগণের আস্থা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা হয়নি। ফলে বিমা খাতে মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিমা কোম্পানিগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অডিটর, সার্ভেয়ার, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিসহ বাজারভিত্তিক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
ড. তিতুমীর বলেন, সরকার এমন একটি বিমা খাত গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বিমার পরিধি বাড়বে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং প্রতিটি গ্রাহক তার ন্যায্য সেবা ও প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাঈদ আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিবেদকের নাম 




















