ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

মালিকের নাম দিয়েই অনলাইনে খুঁজুন জমির খতিয়ান

জমির দলিল বা খতিয়ান নম্বর হাতের কাছে না থাকলেও শুধু জমির মালিকের নাম ব্যবহার করে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এ জন্য ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পোর্টালে জমির রেকর্ড অনুসন্ধান করা যায়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে (ডিএলআরএমএস) মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধানের সুবিধা রয়েছে। তবে সঠিক তথ্য পেতে জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার নাম জানা জরুরি। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কোথায় খুঁজবেন জমির রেকর্ড

জমির খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://dlrms.land.gov.bd

এখানে সার্ভে খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। মালিকের নাম ছাড়াও খতিয়ান নম্বর কিংবা দাগ নম্বর ব্যবহার করে জমির রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  কালিয়াকৈরে শ্রমিকের আন্দোলন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান বের করার পদ্ধতি

অনলাইনে খতিয়ান খুঁজতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—

প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ

মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন। এরপর খতিয়ান অনুসন্ধানের নির্দিষ্ট সেবাটি নির্বাচন করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: জমির অবস্থান নির্বাচন

জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মৌজা নির্ধারণ করুন।

মৌজার নাম সঠিকভাবে নির্বাচন করা জরুরি। একই নামে একাধিক মৌজা থাকতে পারে। তাই মৌজার জেএল নম্বর জানা থাকলে সেটিও মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

তৃতীয় ধাপ: জরিপের ধরন নির্বাচন

জমিটি কোন জরিপের অধীনে রেকর্ড করা হয়েছে, তা নির্বাচন করতে হবে। যেমন—সিএস, এসএ, আরএস অথবা বিএস। পুরোনো পর্চা কিংবা দলিলে জরিপের ধরন উল্লেখ থাকলে সেখান থেকে তথ্যটি জেনে নিতে পারেন।

চতুর্থ ধাপ: মালিকের নাম লিখুন

খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান খোঁজার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ঘরে জমির রেকর্ডে থাকা মালিকের নাম লিখে অনুসন্ধান করুন।

আরও পড়ুনঃ  বিরামপুরে যুবকের মৃত্যু, নববধূসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পঞ্চম ধাপ: খতিয়ানের তথ্য যাচাই

অনুসন্ধানের পর একাধিক খতিয়ানের তথ্য আসতে পারে। শুধু নাম দেখে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান নির্বাচন করা ঠিক হবে না। মালিকের নামের পাশাপাশি পিতা বা স্বামীর নাম, মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ মিলিয়ে নিতে হবে।

খতিয়ানে যেসব তথ্য পাওয়া যায়

খতিয়ান মূলত জমির মালিকানা ও স্বত্বসংক্রান্ত রেকর্ড। এতে সাধারণত জমির মালিক বা মালিকদের নাম, মৌজার নাম ও নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মালিকের প্রাপ্য অংশের তথ্য থাকে।

নামজারি সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে মালিকের নাম, জমির দাগ ও পরিমাণসহ মালিকানার হিসাব লিপিবদ্ধ করা হয়। তাই অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে জমির অন্যান্য কাগজপত্রও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শুধু নাম দিয়ে কি মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়?

অনলাইনে কোনো ব্যক্তির নাম দিয়ে খতিয়ান পাওয়া গেলেই ওই জমির বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত হয় না। কারণ, খতিয়ানে আগের জরিপের সময়কার তথ্য থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রি, উত্তরাধিকার কিংবা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়ায় মালিকানা পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ৭ নভেম্বর প্রকৃত স্বাধীনতা পায় দেশের মানুষ: রিজভী

নামজারি না হলে অনলাইন রেকর্ডে আগের মালিকের নামও দেখা যেতে পারে। তাই জমি কেনাবেচা বা মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন খতিয়ানের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট দলিল, সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে।

নাম দিয়ে খতিয়ান না পেলে করণীয়

অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান পাওয়া না গেলে প্রথমে মালিকের নামের বানান ও মৌজার তথ্য আবার যাচাই করুন। এরপর অন্য জরিপের খতিয়ানেও অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন।

পুরোনো রেকর্ডে নামের বানান কিংবা অন্যান্য তথ্যে পার্থক্য থাকলেও অনুসন্ধানে সমস্যা হতে পারে। এসব যাচাইয়ের পরও খতিয়ান না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস অথবা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মালিকের নাম দিয়েই অনলাইনে খুঁজুন জমির খতিয়ান

আপডেটের সময়: ০২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

জমির দলিল বা খতিয়ান নম্বর হাতের কাছে না থাকলেও শুধু জমির মালিকের নাম ব্যবহার করে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান খুঁজে পাওয়া সম্ভব। এ জন্য ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পোর্টালে জমির রেকর্ড অনুসন্ধান করা যায়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে (ডিএলআরএমএস) মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধানের সুবিধা রয়েছে। তবে সঠিক তথ্য পেতে জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজার নাম জানা জরুরি। একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

কোথায় খুঁজবেন জমির রেকর্ড

জমির খতিয়ান অনুসন্ধানের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://dlrms.land.gov.bd

এখানে সার্ভে খতিয়ান ও নামজারি খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধান করা যায়। মালিকের নাম ছাড়াও খতিয়ান নম্বর কিংবা দাগ নম্বর ব্যবহার করে জমির রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের প্রথম এআই সিনেমায় অভিনয়ে সিনথিয়া

মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান বের করার পদ্ধতি

অনলাইনে খতিয়ান খুঁজতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—

প্রথম ধাপ: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ

মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ভূমি রেকর্ড ও ম্যাপ সেবা পোর্টালে প্রবেশ করুন। এরপর খতিয়ান অনুসন্ধানের নির্দিষ্ট সেবাটি নির্বাচন করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: জমির অবস্থান নির্বাচন

জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট মৌজা নির্ধারণ করুন।

মৌজার নাম সঠিকভাবে নির্বাচন করা জরুরি। একই নামে একাধিক মৌজা থাকতে পারে। তাই মৌজার জেএল নম্বর জানা থাকলে সেটিও মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

তৃতীয় ধাপ: জরিপের ধরন নির্বাচন

জমিটি কোন জরিপের অধীনে রেকর্ড করা হয়েছে, তা নির্বাচন করতে হবে। যেমন—সিএস, এসএ, আরএস অথবা বিএস। পুরোনো পর্চা কিংবা দলিলে জরিপের ধরন উল্লেখ থাকলে সেখান থেকে তথ্যটি জেনে নিতে পারেন।

চতুর্থ ধাপ: মালিকের নাম লিখুন

খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ অপশনে যেতে হবে। সেখানে মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান খোঁজার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট ঘরে জমির রেকর্ডে থাকা মালিকের নাম লিখে অনুসন্ধান করুন।

আরও পড়ুনঃ  ৭ নভেম্বর প্রকৃত স্বাধীনতা পায় দেশের মানুষ: রিজভী

পঞ্চম ধাপ: খতিয়ানের তথ্য যাচাই

অনুসন্ধানের পর একাধিক খতিয়ানের তথ্য আসতে পারে। শুধু নাম দেখে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান নির্বাচন করা ঠিক হবে না। মালিকের নামের পাশাপাশি পিতা বা স্বামীর নাম, মৌজা, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর এবং জমির পরিমাণ মিলিয়ে নিতে হবে।

খতিয়ানে যেসব তথ্য পাওয়া যায়

খতিয়ান মূলত জমির মালিকানা ও স্বত্বসংক্রান্ত রেকর্ড। এতে সাধারণত জমির মালিক বা মালিকদের নাম, মৌজার নাম ও নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ এবং মালিকের প্রাপ্য অংশের তথ্য থাকে।

নামজারি সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে মালিকের নাম, জমির দাগ ও পরিমাণসহ মালিকানার হিসাব লিপিবদ্ধ করা হয়। তাই অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে জমির অন্যান্য কাগজপত্রও মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শুধু নাম দিয়ে কি মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়?

অনলাইনে কোনো ব্যক্তির নাম দিয়ে খতিয়ান পাওয়া গেলেই ওই জমির বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত হয় না। কারণ, খতিয়ানে আগের জরিপের সময়কার তথ্য থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে জমি বিক্রি, উত্তরাধিকার কিংবা অন্য কোনো বৈধ প্রক্রিয়ায় মালিকানা পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  গভীর রাতে শেকৃবি ক্যাম্পাসে পরপর দুই ককটেল বিস্ফোরণ

নামজারি না হলে অনলাইন রেকর্ডে আগের মালিকের নামও দেখা যেতে পারে। তাই জমি কেনাবেচা বা মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু অনলাইন খতিয়ানের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট দলিল, সর্বশেষ নামজারি খতিয়ান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে।

নাম দিয়ে খতিয়ান না পেলে করণীয়

অনুসন্ধানে কাঙ্ক্ষিত খতিয়ান পাওয়া না গেলে প্রথমে মালিকের নামের বানান ও মৌজার তথ্য আবার যাচাই করুন। এরপর অন্য জরিপের খতিয়ানেও অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন।

পুরোনো রেকর্ডে নামের বানান কিংবা অন্যান্য তথ্যে পার্থক্য থাকলেও অনুসন্ধানে সমস্যা হতে পারে। এসব যাচাইয়ের পরও খতিয়ান না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিস অথবা ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।