বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বহু প্রতীক্ষিত আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই অবশেষে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা সুইজারল্যান্ডকে এবং ইংল্যান্ড নরওয়েকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশার সেই ম্যাচই এখন সামনে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১৯৮৬ সালের পর তৃতীয় শিরোপার অপেক্ষা শেষ করে ২০২২ সালে চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার লক্ষ্য পঞ্চম শিরোপা। অন্যদিকে ১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে না পারা ইংল্যান্ডও দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্নে বিভোর। ফলে সেমিফাইনালের এই লড়াইকে অনেকেই অলিখিত ফাইনাল হিসেবে দেখছেন।
লিওনেল মেসির জন্য ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বকাপে ২০০৬ সাল থেকে খেললেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মূল আসরে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার। তাই ইংলিশদের বিপক্ষে এটি হতে যাচ্ছে মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ।
বিশ্বকাপে ১৯৬২ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে তিনবার, আর আর্জেন্টিনা জিতেছে দুবার। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোল—যার একটি ছিল বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’—এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
অতিরিক্ত সময়ে জিতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত পাস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার গোল করে দলকে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬৭ মিনিটে ড্যান এনদোয় গোল করে সমতা ফেরান সুইজারল্যান্ডের হয়ে। এরপর ম্যাচে নতুন মোড় আসে এমবোলোর লাল কার্ডে। ভিএআর পর্যালোচনার পর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেন রেফারি।
১০ জনের দল নিয়েও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে সুইসরা। নির্ধারিত সময়ে ফল না আসায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের গোল নিশ্চিত করে ৩-১ ব্যবধানে জয় এবং সেমিফাইনালের টিকিট।
কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় মেসিরা
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার পথ মোটেও সহজ ছিল না। ৩২ দলের পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আত্মঘাতী গোলে জয়, শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জেতা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে হারানো—সব মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে স্কালোনির শিষ্যদের।
এবার সামনে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইসদের সমৃদ্ধ আক্রমণভাগ আর্জেন্টিনার রক্ষণকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলবে। তাই ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মেসিদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড।
প্রতিবেদকের নাম 




















