রাজবাড়ী শহরের প্রধান সড়ক ও জনবহুল এলাকার ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান। ফাস্টফুড, ফল, বাহারি খাবার, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের এসব দোকান ঘিরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। ফলে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়কে বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের টাউন মক্তব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে সিভিল সার্জনের সরকারি বাসভবন পর্যন্ত প্রধান সড়কের পাশের ফুটপাতজুড়ে শতাধিক ফাস্টফুড, স্ট্রিট ফুড ও পোশাকের দোকান বসেছে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এসব দোকানে বেচাকেনা চলে। রাতে দোকানগুলো কাপড়, পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রেখে যান ব্যবসায়ীরা। পরদিন দুপুরে আবার শুরু হয় বেচাকেনা।
ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। খাবারের দোকানকে কেন্দ্র করে রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
এ ছাড়া খাবারের উচ্ছিষ্ট ও বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফুটপাত ও আশপাশে ফেলে রাখায় পরিবেশও নোংরা হচ্ছে। খোলা জায়গায় বিক্রি করা এসব খাবার নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও রয়েছে।
শুধু জেলা স্কুলের সামনের ফুটপাত নয়, শহরের প্রাণকেন্দ্র পান্না চত্বরের নান্নু টাওয়ারের সামনে, টাউন মক্তব স্কুলের মোড়, বড়পুল থেকে আনসার ক্যাম্প মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান ও ডিভাইডারের মাঝেও ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাজবাড়ী বাজারের মজিব বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে কাপড় বাজারের মোনাক্কা টাওয়ার পর্যন্ত ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে ভ্যানের ওপর কাপড়, ফল, ফুচকা ও বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসেছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন নাগরিক জানান, বিকেলের পর জেলা স্কুলের সামনের ফুটপাত দিয়ে হাঁটার মতো পরিস্থিতি থাকে না। দোকানের পাশাপাশি ক্রেতাদের বসার জন্য ড্রেনের ওপর চেয়ার-টুলও রাখা হয়। ফলে ড্রেনের ওপর দিয়েও পথচারীদের চলাচলের সুযোগ থাকে না।
তাদের ভাষ্য, ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য। সেখানে দোকান বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিকল্প জায়গা চান ব্যবসায়ীরা
ফুটপাতে দোকান বসানোর বিষয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রায় এক বছর ধরে তারা জেলা স্কুলের সামনে ব্যবসা করছেন। ফুটপাতে দোকান বসানো ঠিক নয়, সেটি তারা জানেন। তবে ব্যবসা করার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে ফুটপাতেই বসতে হচ্ছে।
একজন ফাস্টফুড ব্যবসায়ী বলেন, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টা দোকান বসান। এই ব্যবসার আয় দিয়েই তাদের সংসার চলে। দোকান সরিয়ে নিতে হলে বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এদিকে ফুটপাতের এসব ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে ‘মিস মহাল’-এর নামে খাজনার রশিদের মাধ্যমে ২০ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ফুটপাত দখলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি পৌর শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার নির্দেশ দেন।
সভায় তিনি বলেন, বাজার এলাকায় হকাররা ভ্যান নিয়ে রাস্তার ওপর ব্যবসা করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পৌর শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। বাজারের ভেতরে ফুটপাতে কোনো দোকান বসতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে রাজবাড়ী পৌরসভাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলেন।
তবে সভায় নির্দেশ দেওয়ার পরও রাজবাড়ী পৌরসভা এখন পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
রাজবাড়ী ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফুটপাত মানুষের চলাচলের জন্য। সেখানে দোকান বসানো আইনবিরুদ্ধ। তবে ফুটপাতের ওপর দোকান বসানোর বিষয়টি পৌরসভা দেখবে। ট্রাফিক পুলিশ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করে। এসব দোকানের কারণে যানজট সৃষ্টি হলে সে ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিগগির অভিযান: পৌরসভা
রাজবাড়ী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হক বলেন, জেলা স্কুলের সামনে ফুটপাত দখল করে বসা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর কোনো অনুমোদন পৌরসভা থেকে দেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অতি শিগগির অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















