দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৈতিক, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করা সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিশুশ্রম, সামাজিক সহিংসতা, বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যের মতো বিভিন্ন সমস্যা এখনও সমাজে রয়েছে। এসব সামাজিক ব্যাধি দূর করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি শিশু একেকটি ফুলের মতো এবং তাদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের পথপ্রদর্শক, অভিভাবক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রের চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। তাই সঠিক যত্ন, স্নেহ ও শিক্ষার মাধ্যমে তাদের উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, নিষ্পাপ শিশুদের হাসিমুখ নতুন বাংলাদেশের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক। তাদের ভেতরে থাকা সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করা নৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।
শিশুদের কল্যাণ এবং তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ১৯৭৮ সাল থেকে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ও তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বাণীতে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনন্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, শিল্প ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, শিশু অধিকার দিবস পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির গৌরবময় সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিশু একাডেমির ৫০ বছরের পথচলা লাখো শিশুর সৃজনশীলতা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতিফলন।
সরকারপ্রধান আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী নতুন স্বপ্নে জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি একটি নতুন মানবিক অভিযাত্রার পথ দেখাবে। শিশুদের নির্মল হাসি, সুপ্ত স্বপ্ন ও সাফল্যের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের নিরাপদ, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে দেশের সব শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাণীর শেষে শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 






















