ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সংবিধান সংশোধন কমিটির মতবিনিময়ে যাচ্ছে না জামায়াত-এনসিপিসহ কয়েক দল

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

জুলাই জাতীয় সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মতবিনিময় করবে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক

বিশেষ কমিটির সূত্র জানায়, রোববার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচির একটি হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময়’।

ইতোমধ্যে দল ও জোটগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মতবিনিময়ে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে দল ও জোটগুলোর মতামত উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ভুলের পর ভুল করে সরকার জনগণের অনাস্থা বাড়িয়েছে: মঞ্জু

কেন অংশ নিচ্ছে না বিরোধীরা

গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে বিরোধী দল। তবে সেটি গঠন না করায় সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত সরকারি কোনো উদ্যোগে অংশ নিতে চায় না তারা।

বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের যেসব শরিক দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তারাও সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে এসব দলের মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর বাইরে আরও দুয়েকটি দলও সভায় অংশ নাও নিতে পারে।

১১-দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, তারা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে মতবিনিময়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত ছিল। সেটি না করে বিশেষ কমিটি গঠন করা ঠিক হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  এশিয়ান গেমসে অভিষেকেই চীনের কাছে ১৩-০ গোলে হার বাংলাদেশের

জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। সংবিধানবিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সে সময় আলোচনা হয়েছিল। বাম ধারার চারটি দল সনদে সই করেনি। সব মিলিয়ে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট সনদে সই করে। এর মধ্যে ৮টি দল বর্তমানে ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে রয়েছে।

জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল।

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ওই আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা।

বিশেষ কমিটি গঠন

বিএনপি সরকার গঠনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। দলটির সদস্যরাও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় চুরির অভিযোগে যুবকের মৃত্যু, মারধরের অভিযোগ

এর পরিবর্তে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি চাওয়া হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি এবং কমিটিও প্রত্যাখ্যান করে।

বিশেষ কমিটি সূত্র জানায়, সরকারি দল আশা করেছিল ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দেবে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে এখন বিশেষ কমিটি তাদের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে যাচ্ছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সংবিধান সংস্কার কীভাবে হবে, তা গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়নি। তার মতে, প্রথাগত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধন করা হলে সংকটের সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি গঠনের সময়ই তারা সরকারকে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের কমিটিতে তারা থাকবেন না। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনা হলে সেখানে তারা অংশ নেবেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সংবিধান সংশোধন কমিটির মতবিনিময়ে যাচ্ছে না জামায়াত-এনসিপিসহ কয়েক দল

আপডেটের সময়: ১০:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মতবিনিময় করবে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি দল ও জোটের প্রতিনিধিদের এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ কয়েকটি দল মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।

কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক

বিশেষ কমিটির সূত্র জানায়, রোববার বেলা আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচির একটি হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কমিটির মতবিনিময়’।

ইতোমধ্যে দল ও জোটগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের দুজন করে প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মতবিনিময়ে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে দল ও জোটগুলোর মতামত উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাজনৈতিক দল, সংবিধানবিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ভুলের পর ভুল করে সরকার জনগণের অনাস্থা বাড়িয়েছে: মঞ্জু

কেন অংশ নিচ্ছে না বিরোধীরা

গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে বিরোধী দল। তবে সেটি গঠন না করায় সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত সরকারি কোনো উদ্যোগে অংশ নিতে চায় না তারা।

বিশেষ কমিটিতেও বিরোধী দল কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের যেসব শরিক দলের সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তারাও সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ কারণে এসব দলের মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর বাইরে আরও দুয়েকটি দলও সভায় অংশ নাও নিতে পারে।

১১-দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, তারা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে মতবিনিময়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা উচিত ছিল। সেটি না করে বিশেষ কমিটি গঠন করা ঠিক হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  সাত মাসে নারীদের ধর্ষণের ৪০০ ঘটনা, শিশু সহিংসতা ৬০৬

জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাব

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের লক্ষ্যে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়। সংবিধানবিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সে সময় আলোচনা হয়েছিল। বাম ধারার চারটি দল সনদে সই করেনি। সব মিলিয়ে ২৬টি রাজনৈতিক দল ও জোট সনদে সই করে। এর মধ্যে ৮টি দল বর্তমানে ১১-দলীয় ঐক্যের সঙ্গে রয়েছে।

জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এগুলো বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল।

সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ওই আদেশ অনুযায়ী ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যদের নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করার কথা।

বিশেষ কমিটি গঠন

বিএনপি সরকার গঠনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেনি। দলটির সদস্যরাও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর

এর পরিবর্তে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি চাওয়া হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি এবং কমিটিও প্রত্যাখ্যান করে।

বিশেষ কমিটি সূত্র জানায়, সরকারি দল আশা করেছিল ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দেবে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা কোনো প্রতিনিধি দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে এখন বিশেষ কমিটি তাদের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করতে যাচ্ছে।

এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সংবিধান সংস্কার কীভাবে হবে, তা গণভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়নি। তার মতে, প্রথাগত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধন করা হলে সংকটের সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, বিশেষ কমিটি গঠনের সময়ই তারা সরকারকে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের কমিটিতে তারা থাকবেন না। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে আলোচনা হলে সেখানে তারা অংশ নেবেন।