লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সেতু ধসে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার গ্রামবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ভাঙা বাঁশের চাটাই ও ভেলার ওপর ভর করে ঝুঁকি নিয়ে চান্দারখাল পার হচ্ছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা।
রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পশ্চিম চরঘাসিয়া গ্রামের চান্দারখালে মেঘনা নদী সংযোগ খালের ওপর নির্মিত সেতুটি প্রায় সাত বছর আগে ধসে পড়ে। এরপর স্থানীয়দের অর্থায়নে তৈরি করা হয় একটি অস্থায়ী পাটাতন। সেটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেঘনা নদীসংলগ্ন চরইন্দুরিয়া এলাকায় খালের ওপর নিজেদের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করেছিলেন গ্রামবাসী। বর্তমানে চরঘাসিয়া, চরইন্দুরিয়া ও নতুন কানিবগার চরসহ আশপাশের এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করেন।
সেতু ও সড়ক যোগাযোগের বেহাল অবস্থার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর। পশ্চিম চরঘাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। খাল পার হওয়ার সময় একাধিক কৃষক, শিক্ষক, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও সমস্যায় পড়ছেন চরাঞ্চলের মানুষ। সয়াবিন, ধান ও শাকসবজি বাজারে পরিবহন করতে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হচ্ছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবাতেও তৈরি হয়েছে বড় সংকট। মুমূর্ষু রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। ফলে অনেক সময় রোগীকে কাঁধে কিংবা খাটিয়ায় করে নিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অস্থায়ী পাটাতনটি যেকোনো সময় ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বাঁশের চাটাই ও ভেলা ব্যবহার করেও ঝুঁকি এড়ানো যাচ্ছে না।
উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজগর সর্দার বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, অন্তত সড়কটি সলিং করা এবং চান্দারখালের ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা। এতে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি তাদের জানা আছে। চরাঞ্চলবাসীর ভোগান্তি কমাতে বেড়িবাঁধ ও নদীর পাড় এলাকায় রাস্তা, সেতু ও ব্রিজ নির্মাণে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















